গৌরীপুরে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের গাছ ও জমি রক্ষায় ইউএনওর বরাবর অভিযোগ
গৌরীপুরে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের গাছ ও জমি রক্ষায় ইউএনওর বরাবর অভিযোগ
গৌরীপুরে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের গাছ ও জমি রক্ষায় ইউএনওর বরাবর অভিযোগ
মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুরঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৬ নম্বর বোকাইনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার (রঃ)মাজার শরীফের গাছ, জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাজারের খাদেম মো. ফজলুল হক ফকির।
গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দাখিল করা অভিযোগে মাজারের বাউন্ডারির ভেতরে ও বাইরে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পুরোনো গাছ কেটে বিক্রির অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা এবং মাজারের জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলাম খান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাজারের সম্পদ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, এর আগে মাজারের দানবাক্সের তালা ভেঙে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে তবারক ও অর্থ বিতরণ করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মাজারের খাদেম মিঞা বক্স ফকিরের উত্তরসূরি হিসেবে আব্দুল লতিফ ফকির ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত।
অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর পরিবারের উদ্যোগে নিজামউদ্দিন আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিজামউদ্দিন আউলিয়া জামে মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব স্থাপনা ও মাজারের সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তৎকালীন জমিদার মনমোহন সিং ও গৌরীপুরের রাজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর কাছ থেকে তাঁর পূর্বপুরুষের নামে জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিল।
এ বিষয়ে সিএস ও এসএ খতিয়ানের ফটোকপি এবং বিভিন্ন স্থাপনার ছবি অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে মাজারের গাছ, জমি ও স্থাপনাগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি), গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং গৌরীপুর প্রেস ক্লাবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে মাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ মোঃ আল আমিন ফকির ও সোহাগ আহাম্মেদ জানিয়েছেন গাছ কাটা সম্পর্কে তারা অবগত নই। তাদেকে কিছুই জানানো হয়নি। এই বিষয়ে আমিনুল ইসলাম খানকে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাকে নিজাম উদ্দিন আওলিয়ার অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছি।
২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করেছি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা জানিয়েছেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি এবিএম কাউছার জামানকে সরজমিনে পাঠানো হয়েছে।
সরকারী সম্পত্তি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাক্তি মালিকানায় সম্পত্তি হলে মাজার কর্তপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
Related Articles
জাতীয়
লালমাইতে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় রহমতপুর মাদ্রাসা ৩০ পারা গ্রুপে প্রথমসহ ৬টি পুরস্কার লাভ
লালমাইতে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় রহমতপুর মাদ্রাসা ৩০ পারা গ্রুপে প্রথমসহ ৬টি পুরস্কার লাভ
জাতীয়
বর্হিদেশে পাচারকালে ৩০১ বস্তা ইউরিয়া ২ ট্রাক সারসহ আটক-৮
বর্হিদেশে পাচারকালে ৩০১ বস্তা ইউরিয়া ২ ট্রাক সারসহ আটক-৮
জাতীয়
লালমাইতে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
লালমাইতে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
জাতীয়
শাহবাগে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
শাহবাগে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মতামত দিন।
মন্তব্য করুন