কুমিল্লার নিশিন্তপুর নামার বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে হোটেলসহ ৪ প্রতিষ্ঠান পুড়েপ্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি
কুমিল্লার নিশিন্তপুর নামার বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে হোটেলসহ
৪ প্রতিষ্ঠান পুড়েপ্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ
কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের নিশিন্তপুর নামার বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি খাবারের হোটেল ও দুটি ফার্নিচারের দোকানসহ চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কেটমালিক আব্দুল ওহাব মুন্সীর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকার বেশি।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী মাহাবুব মুন্সী ও মনু মুন্সী জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে মার্কেটের সোহেলের সায়মন হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের ভয়াবহ শিখা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রাণান্তকর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
দিনভর উপার্জনসহ পুড়ল স্বপ্ন, দিশেহারা হোটেল মালিক অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন সায়মন হোটেলের মালিক সাইফুল ইসলাম সোহেল। তিনি জানান, হোটেলের ক্যাশে থাকা সারাদিনের উপার্জনের ২ লাখ ১২ হাজার টাকা, প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি নতুন মোটরসাইকেল, ১৮টি ফ্যান, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলমালিক সোহেল আক্ষেপ করে বলেন, “এই হোটেলের আয় দিয়েই আমার সংসার চলত। আগুনে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাব, তা বুঝতে পারছি না। আগুন আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।”
তাঁর এই অসহায়ত্ব যেন মুহূর্তের মধ্যে সব হারানো একজন পরিশ্রমী মানুষের বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন, সেই প্রতিষ্ঠানই এখন পুড়ে পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
পুড়েছে আরও তিন প্রতিষ্ঠান, বিপাকে ব্যবসায়ীরা একই অগ্নিকাণ্ডে বাচ্চু মিয়ার খাবারের হোটেলটিও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। নগদ টাকা ও মালামালসহ এতে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মদিনা ফার্নিচারের মালিক সোহেল আহমেদের দোকানের খাট, টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং বিল্লাল হোসেনের মা ফার্নিচারের সব মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যবসায়ীর দাবি, তাঁদের দোকান দুটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মার্কেটমালিক আব্দুল ওহাব মুন্সী জানান, আগুনে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মাহাবুব এ এলাহি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা দুটি ইউনিট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে সায়মন হোটেল থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
এ অগ্নিকাণ্ডে নামার বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মুহূর্তের আগুনে পুঁজি, মালামাল ও জীবিকার অবলম্বন হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। তাঁদের কাছে এ ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়, দীর্ঘদিনের শ্রম, পরিশ্রম ও স্বপ্নেরও বড় বিপর্যয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ সংকট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
Related Articles
Business
নিয়ামতপুরে জোরপূর্বক পুকুর থেকে মাছ লুটের অভিযোগ
Article excerpt text goes here to give readers a preview of the full story content.
নিয়ামতপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠিন বর্জ্ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
Article excerpt text goes here to give readers a preview of the full story content.
Central Bank Warns of Persistent Inflation Pressures
Article excerpt text goes here to give readers a preview of the full story content.
Bengaluru Tech Summit Draws Global Startups
Article excerpt text goes here to give readers a preview of the full story content.
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মতামত দিন।
মন্তব্য করুন