রাজধানীসহ সিটি করপোরেশনের ফুটপাতগুলো এখন ব্যবসায়ীদের দখলে

মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, প্রতিদিনের পোস্ট: রাজধানীসহ সিটি করপোরেশনের ফুটপাতগুলো এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। ফুটপাত নির্মাণ করা হয় জনচলাচলের জন্য। নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে কিংবা জনচলাচলের জন্য সড়কে ফুটপাত রাখার বিধান রয়েছে আইনে।

তবে বাস্তবে, যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা আর হাঁটার জন্য ফুটপাত – এর সত্যতা পাওয়া বড়ই দুষ্কর। রাজধানী সহ, সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বেশিরভাগ এলাকার ফুটপাত এখন ব্যবসায়ীদের দখলে।

হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফুটপাতেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাসমান হকাররাও ফুটপাতের বিশাল একটি অংশ দখল করে রেখেছে। রাজধানীর সব ফুটপাতগুলো পথচারীদের নাকি হকারদের তা বোঝা মুশকিল।

ফুটপাত আর রাস্তার একাংশ দখল করে, অর্থাৎ হাটার অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যবসা করাটা যেন অঘোষিত, অলিখিত
নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে।

রাজধানীসহ সিটি করপোরেশনের ফুটপাতগুলো এখন ব্যবসায়ীদের দখলে , এ জাতীয় আরও সংবাদ পড়তে লিংকে করুন
স্কুলের শহীদ মিনার ধসে পড়ে শিশু নিহত

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিতে

রায়পুরায় বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ১৩ দোকান পুড়ে ছাই

কিছু কিছু দোকান রাস্তার ওপর রীতিমতো স্থায়ী রূপ নেয়। বাহারি রকমের ফল,কার্পেট,কম্বল, বই,স্টেশনারী- এমন কিছু নেই যা এখানে বিক্রি হয় না। এসব দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। ক্রেতাদের এসব ভীড় ঠেলে হাটঁতে পথচারীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এমতাবস্থায় ভিড় ঠেলে পথচারীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে কয়েকশ মিটার পাড়ি দেওয়া কয়েক কিলোমিটারের সমান ভোগান্তি হয়। সময়েরও যথেষ্ট অপচয় হয়। দেশের সব ফুটপাতগুলোর চিত্র যেন একই।

কোন কোন জায়গায় দোকানের সঙ্গে ভ্রাম্যমান ভিক্ষুক ও টোকাইদের উপদ্রবও অতিষ্ঠ করে পথচারীকে।
ফুটপাতে পথচারীদের, বিশেষ করে নারীদের চলতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে বেশি। তাদের সঙ্গে ঘটছে অহরহ অপ্রীতিকর ঘটনা। ধাক্কাধাক্কি লেগেই থাকে। অনেকে ইচ্ছে করেই গায়ের উপর এসে পড়ে। এসব ফুটপাতে হাঁটতে গেলে পকেটমারের আতঙ্কেও থাকতে হয়।

এসব কারণে অনেকে মেইন রোডে হাঁটতে বাধ্য হয়, ফলে দূর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়। প্রায় সব এলাকায়ই দিনের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাত গুলো হকার ও ব্যবসায়িদের দখলে চলে যায়। এলাকা ভেদে রাত ১০ টা বা ১১ টা পর্যন্ত তাদের দখলেই থাকে ফুটপাত। পথচারীদের ফুটপাতে ফেরার আগেই আবারও হকারদের দখলে চলে যায় ফুটপাত।

এ দুর্ভোগ যেন শেষ হবার নয়।যে যার মতো ফুটপাত দখল করে আছে।ফুটপাতের এ অবাধ দখলদারিত্ব কোনভাবেই মানা যায় না। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও,উচ্ছেদের পর আবারও আগের অবস্থায়ই ফিরে আসে দখলদাররা।

সকালে দখল,দুপুরে উচ্ছেদ, আবার বিকেলে দখল। এসব কারণে পথচারীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। পথচলায় নেই কোন স্বস্তি। বাড়ছে যানজট,বৃদ্ধি পাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। বাড়ছে অপরিচ্ছন্নতা। রাজধানী ক্রমেই হচ্ছে বসবাসের অনুপযোগী, হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য। আর এসব সমস্যার মূলে ফুটপাত বাণিজ্য।

ফুটপাত নির্মাণ করা হয় জনচলাচলের জন্য। সেসব দখল করে যদি ব্যবসা পরিচালনা করা হয় তাতে জনগণকেই তার হাঁটার অধিকার, চলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ফুটপাত দখল ও এর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেপথ্যে থাকা রাঘব বোয়ালদের চিহ্নিত করা উচিত। হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত, যাতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে।এ ব্যাপারে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সিটি করপোরেশনগুলোকে।

নান্দিনা, জামালপুর সদর, জামালপুর || এই ওয়েবসাইটের লেখা আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.