ভোটের লড়াই নয়, লড়াই হচ্ছে নৌকার জন্য

টিকিট পেলেই জয় সুনিশ্চিত এমন আশায় দৌড়াচ্ছে প্রার্থীরা। অনেকেই বলছেন লড়াই ভোটের মাঠে নয়, আসল লড়াই নৌকা প্রাপ্তি।

প্রদীপ কুমার দেবনাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি, প্রতিদিনের পোস্ট: ভোটের হাওয়া বইছে তৃণমূলে। ধাপে ধাপে তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন চলছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়া অন্যদের ভোটে তেমন আগ্রহ নেই। প্রতিটি ইউনিয়নেই সরকার দলীয় অর্ধ ডজন বা তারও বেশি প্রার্থী দৌড়াচ্ছেন মনোনয়ন লাভের আশায়। নির্বাচনী মাঠ কর্মী বা ভোটারে গরম নয় সরগরম হচ্ছে প্রার্থীদের পদচারণায়।

লড়াই কিন্তু ভোটের জন্য নয় লড়াই শুধু নৌকা পেতে। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে পারে। তবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন অনেকেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বাঁধা নেই বলে জানিয়েছেন। তবে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মাঠে নেমেছে জোরেসোরে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই প্রার্থী দিচ্ছে তারা।

ক্ষমতাসীনদের নেতৃবৃন্দ নৌকার জন্য এত ছুটোছুটি করছেন যে ইউনিয়ন পর্যায়ে বি’শৃ’ঙ্খলা, হা’নাহা’নি, নৈ’রা’জ্য আর অস্থি’তিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। টিকিট পেলেই জয় সুনিশ্চিত এমন আশায় দৌড়াচ্ছে প্রার্থীরা। অনেকেই বলছেন লড়াই ভোটের মাঠে নয়, আসল লড়াই নৌকা প্রাপ্তি।

দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হবে এ বছরেই। প্রথম ধাপ শেষে চলছে দ্বিতীয় ধাপের লড়াই। পরবর্তী পাঁচ ধাপে বাকিগুলোতে ভোট হবে। নরসিংদীর বেলাব উপজেলাতে নতুন পুরাতন অনেক প্রার্থী সক্রিয়। সকলেই ছুটছেন নেতার পিছনে।

এছাড়াও তারা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সান্নিধ্য পেতে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতি ইউপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্যানেল পাঠাতে তৃণমূলে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির মনোনয়ন বোর্ড সেখান থেকে একজনকে বেছে নেবে।

বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলের তৃণমূলের অনেক নেতাই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। ২০১৯ সালে বিএনপি দলীয়ভাবে বর্জন করার পরও দলের অনেক নেতা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। তবে এবার বহিস্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি কোন এ্যাকশনে যাবেনা বলেও জানা গেছে।

বেলাব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে অনেকেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী এক নেতা বলেন জোরজুলুম, সিল মেরে বাক্স ভরাট না করলে, প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করলে নির্বাচনে আমাদের কেউ পরাজিত করতে পারবেনা।

অপরদিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকে জানিয়েছেন দলীয় টিকেট না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করবেন তারা। আবার কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন এমনটিও বলেছেন। জাতীয় পার্টি ও ইউপি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী দিবেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন উপলক্ষে নেতা-নেত্রীদের বিরামহীন ছুটে চলা অব্যাহত আছে।

এই ওয়েবসাইটের লেখা আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.