বুড়িচংয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামী আটক
বুড়িচংয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামী আটক
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচংঃ
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পারিবারিক কলহের জেরে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সুমাইয়া ইসলাম রুমিকে লাথি মেরে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ইমতিয়াজ আহমেদ বায়েজিদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নিহতের মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত সুমাইয়া ইসলাম রুমি একই উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী ইমতিয়াজ আহমেদ বায়েজিদ শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে। কয়েক বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়।
পারিবারিক বিরোধ থেকে মর্মান্তিক পরিণতি নিহতের মা রিনা ইসলামের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বায়েজিদ।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে গাভীর দুধ দোয়ানোকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বায়েজিদ তাঁর দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুমির তলপেটে সজোরে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিনা ইসলামের দাবি, লাথির আঘাতে রুমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকলেও তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রুমির মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা।
মায়ের সন্দেহ, খবর দেওয়া হয় পুলিশকে রিনা ইসলাম জানান, রোববার সন্ধ্যায় বায়েজিদ ফোন করে তাঁর মেয়ের আত্মহত্যার খবর দেন। একই সঙ্গে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে রাখার কথাও জানান। তবে মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে তাঁর সন্দেহ হয়। তাঁর দাবি, রুমি আত্মহত্যা করেননি; তাঁকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর তিনি দ্রুত বুড়িচং থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে বুড়িচং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়া উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ সেখান থেকে রুমির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বুড়িচং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রাকিবুল হাসান জানান, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাভীর দুধ দোয়ানোকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এ সময় বায়েজিদ তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে রুমির মৃত্যুর পর তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে প্রধান অভিযুক্ত ইমতিয়াজ আহমেদ বায়েজিদকে আটক করা হয়েছে।
দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রুমির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের অভিযোগের সত্যতা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মতামত দিন।
মন্তব্য করুন