স্বামী সৌদি প্রবাসী, আলিশান বাড়ি; তারপরও তিনি ভিজিডি কার্ডধারী গ্রাহক

স্বামী সৌদিপ্রবাসী প্রায় ২০ বছর। মাসে টাকা পাঠান মোটা অঙ্কের। বিশাল সহায়-সম্পদের মালিক, আধাপাকা আলিশান ঘর। আর সেই বাড়ির গৃহকর্তীর নামে হয়েছে ভিজিডির (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কার্ড। যা পাওয়ার কথা দুস্থ ও অসহায় নারীদের। এই রকমের ঘটনা ময়মনসিংহের নান্দাইলের সাভার গ্রামে। গতকাল রবিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে।

ওই নারীর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের সাভার গ্রামে। তাঁর নাম মোসা. সামছুননাহার (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের মো. এমদাদুল হকের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমদাদুল হক প্রায় ২০ বছর ধরে কর্মসূত্রে সৌদি আরব রয়েছেন। গতকাল রবিবার সাভার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের বাড়ির চেয়ে একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে তাঁর। বাড়ির পাশেই শানবাঁধানো পুকুর। পাশের বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছিলেন এক ব্যক্তি। জানতে চাইলে তিনি দেখিয়ে দিয়ে বলেন ‘এটাই সামছুন্নাহারের বাড়ি’। পরে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন এক যুবক।

তিনিই সামছুননাহারের ছেলে। তার সহায়তা নিয়ে মা সামছুননাহারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁর নামে ভিজিডি কার্ড থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, কার্ডটি তাঁর নামে থাকলেও এর সুবিধা তিনি নেন না। সুবিধাভোগীর নাম জানতে চাইলে তিনি তাঁর জা আনোয়ারা খাতুনকে দেখিয়ে দেন। ‘আনোয়ারার নাম তো বিধবা ভাতার তালিকায়ও রয়েছে। একই ব্যক্তি তো সরকার প্রদত্ত দুই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না। তাহলে আপনারা কিভাবে নিচ্ছেন’- প্রশ্ন করা হলে উল্লিখিত দুই নারী নিরুত্তর থাকেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে সামছুননাহার বলেন, প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মনসুর তাঁদের দুজনের নামে কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নান্দাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবুল মনসুর বলেন, এ ধরনের কাজ প্রত্যেক ইউনিয়নে হচ্ছে। প্রবাসীর স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড থাকলে ক্ষতি কী। তিনি এ প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আপনাকে এসব খবর কে দিয়েছে।

আরেকটি সূত্রে জানায়, আবুল মনসুরের তিন ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও মনোয়ার হোসেনের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলে আবুল মনসুর বলেন, আমার ছেলেরা আলাদা থাকে। তাঁদের নামে সরকারের খাদ্য কর্মসূচির কার্ড থাকলে দোষের কি আছে।

নান্দাইল উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রাশিদা রহমান জানান, এ বিষয়টি তালিকা হওয়ার পরে জানতে পেরেছেন। এখন তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *