নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন নৌকার প্রার্থী

বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ভোটের আগের দিন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলিমুদ্দিন। শনিবার (২৭ নভেম্বর) তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বজলুর রশিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে তাকে সমর্থন জানিয়ে ভোট বর্জন

করেন।তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী আলিমুদ্দিনের দাবি, নির্বাচনের সবকিছু তার অনুকূলে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থীর সন্ত্রাস, দলের বৃহৎ অংশ ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তিনি সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেননি।

তাকে দল থেকে বহিষ্কারেরও ষড়যন্ত্র চলছে। তবে এলাকায় প্রচারণা চলছে, আলিমুদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুল আলমকে হারাতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত বগুড়া সদরের নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলিমুদ্দিনকে দ্বিতীয়বারের মতো নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়। টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম। ইউনিয়ন বিএনপির

সভাপতি বজলুর রশিদও স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ বদরুল আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর থেকে নৌকা প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখাদেয় নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। প্রচারণা নিয়ে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের

মাঝে কয়েকদফা সংঘর্ষ হয়। তাদের সহিংসতা থামাতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়।এদিকে নির্বাচনের আগের দিন শনিবার নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আলিমুদ্দিন তার কর্মী-সমর্থকদের ডেকে নিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

বিকালে তার ইউনিয়ন কার্যালয়ে বিএনপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বজলুর রশিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। আলিমুদ্দিন সেখানে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেন বলে উপস্থিত অনেকে প্রচারণা চালান।নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া প্রসঙ্গে আলিমুদ্দিন জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীর অত্যাচার, নিজ দলের বড় অংশ ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি তার কর্মীদের ডেকে স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি দুপুরে এ ঘোষণা দেওয়ার পর

বিকালে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী বজলুর রশিদ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি তাকে সমর্থন দেননি। নির্বাচন বর্জন করায় কর্মী-সমর্থকরা কান্নাকাটি করছেন। তবে জনগণ ভালোবেসে তাকে ভোট দিলে তা তিনি গ্রহণ করবেন।অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুল আলম বলেন, ‘জনসমর্থন না থাকায় আলিমুদ্দিন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।’ তিনি তার বিরুদ্ধে আলিমুদ্দিনের আনীত সব অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন।বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী বজলুর রশিদ জানান, নৌকা প্রার্থী আলিমুদ্দিন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় তিনি তার কাছে পরামর্শ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। তবে তিনি তাকে প্রকাশ্যে কোনও সমর্থন দেননি।বগুড়া সদর উপজেলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাফুজুল ইসলাম রাজ জানান, তার সংগঠনের সহ-সভাপতি ও নুনগোলা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আলিমুদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ও এর কারণ জানাননি।বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, নুনগোলা ইউনিয়নে নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি মামলা হয়েছে। এসব তদন্ত চলছে। তবে ওসি নৌকা প্রার্থী আলিমুদ্দিনকে অসহযোগিতার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন।এদিকে, রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল থেকে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় শেষ হয়েছে। রাতে ফলাফল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *