বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পেয়ে ক্ষুব্ধ চীন-রাশিয়া

বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র সম্মেলন আহ্বান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আগামী ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারত-পাকিস্তানসহ ১১০ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা

প্রকাশ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই তালিকায় নেই চীন ও রাশিয়ার নাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশ দুটি। তালিকা প্রকাশের পর যুক্ত”রাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছে চীন ও রাশিয়া। এটা বিশ্বকে বিভক্ত করবে বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিরোধিতার কথা জানিয়েছে বেইজিং।

বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রথম ভাষণে গণতন্ত্র সম্মেলন আয়োজনের অঙ্গীকার করেছিলেন। মূলত বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিস্তার ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্মেলন হতে যাচ্ছে। খবর এনডিটিভি, রয়টার্স ও এএ”ফপির। মঙ্গলবার যু’ক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া,

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চীন ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েব এরদোয়ানের তুরস্ক দাওয়াত পায়নি। তবে আমন্ত্রণ পেয়েছে ইউক্রেন। যে দেশের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা চলছে। গতকাল রাশিয়া অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আসন্ন গণতন্ত্র সম্মেলনের লক্ষ্য দেশগুলোকে বি’ভক্ত করা। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেছেন,

‘যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে যেসব দেশ ভালো আর যেসব দেশ খারাপ- তাদের মধ্যে নতুন বিচ্ছিন্নকারী রেখা তৈরি করা হচ্ছে।’ এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই সম্মেলনে “তাইওয়ানকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। যে স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্রকে চীন নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ দাবি করে থাকে। যা স্বাভাবিকভাবেই বেইজিংকে

ক্ষুব্ধ করেছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ চলছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন বলেছে, ভুল করেছে ওয়াশিংটন। আমরা এটার প্রতিবাদ করছি। সুস্পষ্টভাবে বিরোধিতা করি।

তাইওয়ানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও তাদের সঙ্গে সামরিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রেখে চলে যুক্তরাষ্ট্র। তাইপের ওপর যে কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রতিবাদ করে থাকে ওয়াশিংটন। গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোয় যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তাইওয়ান।

তারা বলছে, এটা বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি আদায়ের বিরল সুযোগ হবে। স্বশাসিত দ্বীপটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র জাভিয়ার চ্যাং বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে তাইওয়ান তার গণতান্ত্রিক সফলতার গল্প সবার সঙ্গে বিনিময় করতে পারবে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুধু ইসরায়েল ও ইরাক আমন্ত্রণ পেয়েছে। মিসর, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও সংযুক্ত আরব “আমিরাতের মতো মিত্রদের দাওয়াত দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়া থেকে দাওয়াত পেয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও নেপাল।

এ ছাড়া ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশ সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছে। আমন্ত্রণ পায়নি বাংলাদেশও। বাইডেন প্র’শাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সম্মেলন গণতন্ত্র নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সূচনা মাত্র। আগামী বছরে পরবর্তী সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *