প্রেমের টানে নৌকায় করে ভারতে গেল বাংলাদেশী তরুণী, অতঃপর…

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রেম। আর সেই প্রেমের টানেই বাংলাদেশি এক তরুণী নৌকায় করে পাড়ি জমান ভারতে। বাংলাদেশ থেকে কলকাতা হয়ে উত্তরপ্রদেশের মৌ-তে পৌঁছান ওই তরুণী।

ভারতীয় গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, সেখানে প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করতে এবং বিয়েকে আইনি মর্যাদা দিতে প্রথমে জাল পরিচয় পত্র তৈরি করেন ওই তরুণী। তারপর তা থেকে তৈরি করেন পাসপোর্ট। প্রায় এক বছর পর বিষয়টি পুলিশের কানে পৌঁছায়। এরপর গত ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমিককেও গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।

জানা গেছে, ফারজানা খাতুন (২৬) নামের ওই তরুণী বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের বাসিন্দা, কাজ করতেন জর্ডানে। সেখানে থাকতেই ফেসবুকের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের মৌ-এর কোপাগঞ্জের বাসিন্দা গুলশান রাজভার নামে এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তাঁর। দুজনের বন্ধুত্ব দ্রুতই প্রেমে রূপ নেয় এবং তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। গত বছরের অক্টোবরে মেয়েটি বাড়িতে এসে বাংলাদেশ থেকে নৌকায় করে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যান। সেখান থেকে বাসে চড়ে কলকাতায় যান তিনি। প্রেমিক গুলশান আগে থেকেই কলকাতায় অপেক্ষা করছিলেন তাঁর জন্য।

ফারজানাকে সঙ্গে নিয়ে কোপাগঞ্জে নিজের বাড়িতে যান ওই যুবক। তরুণীকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সোনা রাজভার নামে একটি জাল পরিচয় পত্রও তৈরি করান গুলশান রাজভার। এরপর জাল পদ্ধতিতেই বিয়ের হলফনামাও পেয়ে যান দুজনে। অ্যাকাউন্ট খোলেন স্থানীয় এসবিআই-ব্যাংকেও। পরে বিদেশে কোথাও চাকরির জন্য তরুণীর ভুয়া পাসপোর্টও তৈরি করা হয়।

এসব ঘটনার প্রায় এক বছর পর স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ পৌঁছায় উভয়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে তদন্তে নিযুক্ত করা হয়। তদন্তে পুরো বিষয়টি সামনে এলে পুলিশও হতবাক হয়ে যায়। এরপর গত ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় দুজনকে আটক করে পুলিশ।উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সুপার সুশীল ঘুলে

জানিয়েছেন, দুজনেই কোথাও পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ব্রহ্মস্থান এলাকার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছ থেকে তাঁদের দুজনকে আটক করে নগর কোতয়ালি থানার পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে দুটি জাল ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি বাংলাদেশের পাসপোর্ট, জাল পরিচয় পত্র, ব্যাংকের পাসবুক এবং জাল বিয়ের হলফনামা উদ্ধার করা হয়। সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *