আইনমন্ত্রী ডাহা মিথ্যা বলেছেন: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার (১৯নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ন্যাশনাল

পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে’ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার চাইলেই তাঁকে মুক্তি দিতে পারে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। কিন্তু তারা সেটা করবে না। শুধু রাজনীতি নয়, খালেদা জিয়াকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে তার পরিবার আবেদন করেছিলেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেছেন- ‘আইনে কোনো সুযোগ নেই’। এটা ডাহা মিথ্যা কথা। আইনে সুযোগ রয়েছে। যে ৪০১ ধারার কথা তারা বলছে, সেই আইনের মধ্যেই বলা আছে সম্পূর্ণ এখতিয়ার সরকারের আছে। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার চাইলে তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দিতে পারে। সরকার চাইলে তাকে বিদেশে পাঠাতে পারে। সরকার চাইলে পুরোপুরি মুক্ত করে দিতে পারে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে নেতার নেতৃত্বে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ। তিনি বলেন, আমরা জানি না পার্লামেন্টে যখন প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন, কোন রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন। কোন শিষ্টাচারের ভাষায় কথা বলেন। একজন নেত্রী যিনি ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর কারাগারে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, একজন নেত্রী যিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেননি, দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি এখনও এই মুহূর্ত পর্যন্ত কারাগারেই রয়েছেন। এই গণতন্ত্রের জন্য। মামলা দিয়েছে, তারা বলে সাজাপ্রাপ্ত। আরে কোন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যে মামলার কোনো ভিত্তি নেই, যে টাকার কথা তারা বলেছে, সে টাকা এখন তিন/চারগুণ হয়েছে। শুধুমাত্র প্রতিহিংসা আর অহংকার দাম্ভিকতার কারণে আজকে দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে শনিবার (২০ নভেম্বর) গণঅনশনে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে এটা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করবো সবাই আমাদের এই গণঅনশনে একাত্মতা ঘোষণা করবেন। আশা করবো দেশনেত্রী যেন বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পান সেই জন্য আন্দোলনটা জোরদার করবেন। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর এই হাসপাতলে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁকে। এর আগে ১১ নভেম্বর বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। তাঁর সবশেষ শারীরিক অবস্থা জানাতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মহাসচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *