বিয়ের ৪ মাসেই সন্তান প্রসব, ফেলে দেওয়া নবজাতকের বাবা-মা আটক

এক নবজাতককে ধানক্ষেতে কুড়িয়ে পাওয়ার নয়দিন পর আটক হলো আসল বাবা মা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায়।আটককৃতরা হলেন, কেন্দুয়া উপজেলার গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে আল মোমেন (২৪) ও তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার শিলা (১৯)।

এছাড়াও মামলার আরও দুই আসামি হচ্ছে মোমেনের মা শারমিন আক্তার (৫০) ও শিলার মা শিল্পী আক্তার (৪০)।কেন্দুয়া থানার এস আই শফিউল আলম বাদী হয়ে সোমবার রাতে (১৫ নভেম্বর) শিশুর মা বাবা দাদি নানিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন। পরে শিশুটিকে অমানবিকভাবে ফেলে রাখা ও নিষ্ঠুরতার দায়ে থানায় মামলা দায়েরের পর বাবা মাকে আটক করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলীর নির্দেশনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তদন্ত করে নবজাতকের বাবা-মাকে বের করার পর শিশু আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, আটক দুজনের মা আসামি মোমেনের মা শারমিন আক্তার (৫০) ও শিলার মা শিল্পী আক্তার (৪০) কে আটকের চেষ্টা চলছে। তারা গত ৭ নভেম্বর শিশুটি জন্ম নিলে নবজাতক শিশুকে ধানক্ষেতে ফেলে দেন।এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসের ২২ তারিখ গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে মোমেনের সঙ্গে জালালপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ের বিয়ে হয়।

কিন্তু বিয়ের বয়স মাত্র কয়েক মাস হতেই তারা বাবা মা হয়ে পড়ায় সামাজিক ভয়ে ছেলে নবজাতককে জন্মের পরপরই হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গিয়ে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।বিকালে আদমপুর এলাকায় খান এন্ড পন্ডিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করার সময় শিশুরা পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে ওই নবজাতকটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে সমাজ সেবার উদ্যোগে কর্তব্যরত চিকিৎকরা নবজাতকটিকে চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে হাসপাতালেই রাখেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শিশুটি দত্তক নিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন।এদিকে এমন সামাজিক অপরাধ বন্ধে স্থানীয়রা সোচ্চার থাকায় পুলিশ হাসপাতালের রেজিষ্টার দেখে সেদিন কতজন সন্তান প্রসব করেছে এগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে মা বাবার সন্ধান পায়।পরবর্তীতে সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *