‘প্রেম’ করে পলাতক ছোট ভাই, ‘জের’ টানছেন প্রতিবন্ধী শিক্ষক

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে এক তরুণীর ‘প্রেমের সম্পর্ক’র জের টানতে হচ্ছে মো. হাফিজুল্লাহ (৩৮) নামে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষককে। ওই শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাকে চড়, থাপ্পড় ও জুতাপেটা করেছে তরুণীর আত্মীয়-স্বজন।এ নিয়ে গত ৯ নভেম্বর গাজীপুর

জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি সোমবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের জানান মারধরের শিকার ওই শিক্ষক।হাফিজুল্লাহ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামের মৃত মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে তিনি বলেন, আমরা চার ভাই ও দুই বোন। ২০০৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের বাবা মারা যান। বোনদের বিয়ে হয়ে গেলে বাবার মৃত্যুর পর চার ভাই পৃথকভাবে জীবন যাপন শুরু করি। মা গ্রামে তার তৈরি করা বাড়িতে থাকেন। চাকরির জন্য আমি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে স্কুলের কোয়ার্টারে বসবাস করছি।

‘গত ৩০ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে থানা কোয়ার্টারে আসে একদল পুলিশ। ঘুম থেকে উঠে কোয়ার্টারে বসবাসরত সহকর্মীদের ডেকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলি। এ সময় পুলিশ জানায়, আমার ছোট ভাই আমানউল্লাহর সঙ্গে আওলাদ মোল্লার ভাতিজি ও বাতেন মোল্লার ছোট বোনের প্রেমের সম্পর্ক আছে। এ ব্যাপারে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমাকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থানায় দেখা করতে বলেছেন।’

তিনি বলেন, রাতেই বিদ্যালয়ের দুই সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ছোট ভাইকে হাজির করতে বলেন। কিন্তু আমার ভাইয়ের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও তা বন্ধ পাই। ৩১ অক্টোবর সকালে ওসিকে বিষয়টি জানাতে গেলে তিনি রেগে যান এবং ওই মেয়েকে আমার বাড়িতে তুলে দেবেন বলে জানান।

অভিযোগ করে হাফিজুল্লাহ বলেন, ওইদিন আওলাদ মোল্লা, বাতেন মোল্লা, মোশারফ হোসেন শুক্কুর আমাকে থানা থেকে জোর করে গাড়িতে উঠিয়ে গোলাবাড়ি নিয়ে যান। অন্যের দোষ আমার ভাইয়ের ওপর চাপিয়ে আমাকেও নির্যাতন করেছেন তারা। এর প্রতিবাদ জানালে তারা আমাকে চড়-থাপ্পড় ও জুতাপেটা করেন। পরে সেখান থেকে দুপুর দেড়টার দিকে ওসির নির্দেশে অভিযুক্তরা আমাকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে আমানউল্লাহর কোনো ঘর না থাকায় আমার তোলা ঘরে ওই মেয়ে ও তার মাকে উঠিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের ভরণপোষণ দিতে আমাকে বাধ্য করা হচ্ছে। আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে তাদের ভয়ে এখন পর্যন্ত ভরণপোষণ দিয়ে যাচ্ছি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতিবন্ধী এ শিক্ষক বলেন, আমার ভাই কোনো অপরাধ করে থাকলে দেশের প্রচলিত আইনানুসারে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু আমাকে কেন শারীরিক ও মানসিকভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। আমার কী অপরাধ? নানাভাবে আমাকে মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ঘর-বাড়ি দখল করে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তারা যেন আমার ঘর-বাড়ি ফিরিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আওলাদ মোল্লা বলেন, চড়-থাপ্পড় ও জুতাপেটার ঘটনা সত্য নয়, ভিত্তিহীন। অপরাধ করেছে শিক্ষকের ভাই, আমরা তাকে কেন মারবো? তবে আমানউল্লাহর ঘর না থাকার কারণে ওসির নির্দেশে আমরা মেয়ে ও তার মাকে ওই শিক্ষকের ঘরে তুলে দিয়েছি।আরেক অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন শুক্কুর বলেন, আওলাদ মোল্লা আমাকে ঘটনা জানানোর পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার স্বার্থে শিক্ষককে শুধু ধমক দিয়েছি। তবে ওই শিক্ষক খারাপ লোক।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, নারীঘটিত ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ পেয়ে শিক্ষককে ডেকে এনে তার ভাইয়ের খোঁজ করতে বলেছি। এরপর কী হয়েছে আমার জানা নেই।জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম শফিউল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। কালীগঞ্জ থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *