নির্বাচন করতে গিয়ে মারা গেলে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা প্রার্থীর

এই নির্বাচন পারপাসে একটা লোক মারা যাইতে পারে। আমার কর্মী যারা তাদের একটা লিস্ট আছে। এই কর্মীদের ভিতরে যদি কেউ মারা যান আমার নির্বাচন করতে গিয়ে, তাহলে আমার পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা তার পরিবারকে দেওয়া হবে। আর যদি খুনাখুনি বাইড়াবাইড়ি করে হাসপাতালে ভর্তি থাকেন তাহলে আমি তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবো। এমনকি তার সংসারের খরচও আমি চালাবো। আমি মাইট্টা ঢোরা সাপ। চুপ করে শুয়ে থাকি, আর যখন কামড় মারি তখন মাংসসহ ছিঁড়ে ফেলি।’

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এক সভায় এমনই বক্তব্য দিয়েছেন বাসাইল ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম যুবরাজ।ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া ওই বক্তব্যের ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে ইউপি চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য নির্বাচনী সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে। এতে ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাসাইল ইউপির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম যুবরাজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৯৮৬ সালে নির্বাচনে বাসাইলের একটি কেন্দ্রে তিনজন লোককে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছিল।

ওই লোকগো কেউ পাশে দাঁড়ায় নাই। আমি ওই কথাটারে একটা উদাহরণ হিসেবে জনগণরে বলছি, আপনারা নির্বাচন আইলে ভয় পাইয়েন না। আল্লাহ এমন দিন না করুক যেদিন আমাদের সহযোগিতা পাবেন না। আমি কর্মীদের সহযোগিতার জন্য বলছি। আমি এমন কথা কই নাই যে একটা লোক মাইরা আইয়া পইরো আমি তোমাগো ১০ লাগ টাকা দিমু।’

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেবো না। তাই সবাইকে বলবো উসকানিমূলক কথা যেন কেউ না বলেন। যদি এরকম কোনো কথা বাসাইল ইউপির চেয়ারম্যান বলেন তাহলে আমরা পর্যবেক্ষণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *