প্রতীক পেয়েই সংঘর্ষে জড়িয়ে গ্রেপ্তার দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী

ইউপি নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পর রাতে দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস, দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।গতকাল শুক্রবার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পিরিজকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, মির্জাপুর ইউপি নির্বাচনে চশমা প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. আসাদুল্লাহ ভূঁইয়া।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউপি নির্বাচনে চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তিনি এবার চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। বর্তমান মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুল্লাহ ভূঁইয়া পেয়েছেন আনারস প্রতীক এবং মোটরসাইকেল প্রতীক পেয়েছেন মো. আলতাব হোসেন।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) প্রতীক পেয়ে সন্ধ্যায় পিরিজকান্দি বাজারে প্রথমে মঞ্জুর এলাহী সমর্থকরা মিছিল করছিল। একই সময় বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহর সমর্থকরাও মিছিল বের করেন। এ সময় দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা লাঠিসোঠা নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস, আটটি দোকানপাট ও আশপাশের দশটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় দুটি বিকাশ দোকানসহ পাঁচটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

আহত টেঁটাবিদ্ধ মুন্তাজ উদ্দিন (৫৫) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পিরিজকান্দি গ্রামের সমশের আলী প্রধানের ছেলে। তিনি নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধী। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। আহত তিনজন মঞ্জুর এলাহীর সমর্থক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আসাদুল্লাহর পক্ষের কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে পিরিজকান্দি বাজারের বিকাশ এজেন্ট আল আমিন বলে, রাতে মঞ্জুর এলাহী সমর্থকরা দোকানের সাটাঁর ভেঙে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তাঁরা দোকানের মালামলা ও ক্যাশবাক্সে রাখা টাকা নিয়ে যায়। দোকানটি সিসিটিভি আওয়াতায় ছিল বলে জানান তিনি। একই কৌশলে মঞ্জুর এলাহী সমর্থক ইমনের বিকাশের দোকান থেকেও টাকাসহ মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে আসাদুল্লাহর লোকজনের বিরুদ্ধে।

দুটি বিকাশ এজেন্টের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দোকানের সাঁটার ভেঙে কিছু যুবক ও কিশোর ভেতরে ঢুকে প্রথমে ভাঙচুর চালায়। পরে ক্যাশবাক্স থাকা টাকাসহ মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।এ ব্যাপারে মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলে, সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মঞ্জুর এলাহীর একটি মিছিল বাজারের পূর্বে দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহর লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে হামলাকারীরা তার একটি ঔষধের ফার্মেসিসহ বেশ কিছু দোকানে ভাঙচুর চালায়।

পিরিজকান্দি বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলে, মঞ্জুর সমর্থকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ জাতির জনকের ছবি ভাঙচুর করেছে। পরে হামলাকারীরা আমার দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাপত্র ভাঙচুর করেন।রায়পুরা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন বলে, এ ঘটনায় দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *