ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে হত্যা-গুমের হুমকি

সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দিলেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ উদ্দিন নয়ন। মামলার পর গ্রেপ্তার হয়ে সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পান তিনি। অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারকে এলাকাছাড়া করতে উঠেপড়ে লেগেছেন তমিজ উদ্দিন ও তার সহযোগীরা।

এ ঘটনায় পালিয়ে থাকা স্কুলছাত্রীর মা গত রোববার রাতে নিরাপত্তা চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, নুরুল হুদা, এমরান, নুর আলম ও রনিকে সাক্ষী করেছেন।

স্কুলছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, মামলার পর আসামি তমিজ উদ্দিন দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক নওশের কোরেশী। তারপর থেকে আসামি তমিজ উদ্দিন আদালতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাদের (স্কুলছাত্রীর পরিবার) ওপর চাপ দেওয়া শুরু করেন।

স্কুলছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, গত শুক্রবার আসামির দোকানের সামনে দিয়ে তিনি বাড়িতে যাওয়ার সময় তমিজ উদ্দিন তার নাম ধরে অশালীন ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। তিনি মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি দেন। তিনি এসবের প্রতিবাদ করলে তমিজ উদ্দিন তাকে উচ্চস্বরে গালমন্দ করে বলতে থাকেন, মামলা তুলে না নিলে

তাকে ও তার নির্যাতিত মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবেন তিনি। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় তিনি বাড়িতে চলে যান। তমিজ উদ্দিনের অব্যাহত হুমকিতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তারা আত্মগোপন করে আছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বদমেজাজি তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণচেষ্টার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তমিজ উদ্দিন দাবি করেন, তিনি কাউকে হুমকি-ধমকি দেননি। তাকে পুনরায় বিপদে ফেলতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগটি তারা আদালতে পাঠিয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গত বছরের ৯ অক্টোবর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাদীর মেয়েকে মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তমিজ উদ্দিন কৌশলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সেদিন রাতেই থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক তাকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে বহিস্কার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *