যারা তিনবার ক্ষমতায় থাকে, তাদের তেল চর্বি একটু বেশিই থাকে: আলাল

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভবিষ্যত ভয়াবহতা, দেশের এই সংকটকালে বিএনপি মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাতে পেরেছে, করোনা পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সফলতা ও ব্যর্থতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে সরকারের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত আবেদন করা হবে কিনা বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিডি২৪লাইভের মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার মো. ইলিয়াস।

বিডি২৪লাইভ: বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভবিষ্যত ভয়াবহতা কেমন দেখছেন?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: করোনা পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই ভয়াবহ অবস্থা। এটা এমন একটা ভাইরাস, কখন কোন রুপ ধারণ করে এটাও আজ পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা ধরতে পারেননি। কখনো বলা হয় এটা ডেল্টা ভাইরাস, কখনো বলা হয় এটা আরো শক্তিশালি হয়ে আসবে। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে সচেতনতা যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাদেরকে আরো বেশি করে সচেতন করার জন্য ঘরের মধ্যে রাখতে হবে। এমনকি ঘরে রাখতে হলে যেটা বিএনপি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছিল। যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সরকারের নিকট রয়েছে এবং যারা করোনাকালে আরও দরিদ্র হয়েছে তাদের প্রতি পরিবারকে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া উচিত। যাতে করে তারা ঘর থেকে বের হওয়ার তাগিদ অনুভব না করে। এটা সরকার করেনি। আমরা মনে করি সমন্বিত পরিকল্পনা এই সরকার নিতে পারেনি।

বিডি২৪লাইভ: দেশের এই সংকটকালে বিএনপি মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাতে পেরেছে?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: ‘এই সংকট কালে বিএনপি প্রথম থেকেই মানুষের পাশে রয়েছে। প্রথম যখন করোনা সনাক্ত হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে বিএনপি তাদের কর্মসূচি শুরু করেছিলো। এর পর থেকে একটি মুহূর্তের জন্যও ঘরে বসে থাকেনি। ড্যাবসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মাস্ক বিতরণ, হ্যান্ডস্যানি টাইজার বিতরণ করেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে পিপিই, মাস্ক দিয়েছি করোনার প্রথম পর্যায়ে। এছাড়া অক্সিজেন সাপ্লাই, ড্যাবের হেল্প সেন্টার, জেলা পর্যায়ে এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এখনও বিএনপি মানুষের পাশে রয়েছে। সারাদেশে বিএনপির জেলা কার্যালয়গুলোতে হেল্প সেন্টার করা হয়েছে। এখানে অক্সিজেন থেকে শুরু করে প্রাথমিক ওষুধপত্র ও ডাক্তারি পরামর্শ দেওয়া হয়। এখান থেকে হট লাইনের নাম্বারও দেওয়া হয়েছে। এখানে কোন সরকারি বরাদ্দ নেই, আমরা আমাদের মতো করে করছি।’

বিডি২৪লাইভ: দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হয়ে এই সংকট মোকাবিলায় দেশের সব রাজনৈতিক দল এক হতে পারলো না কেন?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: সংঘাতের রাজনীতিতো ১৯৭২ সাল থেকে শুরু হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত অবস্থায় ছাত্রলীগের ভাঙ্গনের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার মূল চেতনা নিয়ে যারা এগিয়ে ছিলো সেই ছাত্রলীগ ভেঙ্গে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। তারপর থেকে শুরু হয়েছে সংঘাত হত্যার রাজনীতি। শুরু হয়েছে শিক্ষাঙ্গনে খুন, রক্ষী বাহিনী কর্তৃক খুন। এর মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে তা পরবর্তীতে আর কাভার করা যায় নি। আমরা দেখেছি ১৯৮১ সালে আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনি দেশে ফিরার পূর্ব পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মধ্যে অসংখ্য দলে বিভক্ত ছিলো। হানাহানি মারামারি ছিলো এই ধারাবাহিকতা থেকে আমরা আজ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারিনি। এছাড়া দুঃখ জনক ঘটনা ২১ আগস্ট। এটা বিএনপি’র আমলে হয়েছে তাই বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। অপর দিকে আওয়ামী লীগের আমলেই ১৫ আগস্ট হয়েছিল অথচ আওয়ামী লীগ সেই ব্যাপারেও অন্য দলকে দোষারোপ করছে। আওয়ামী লীগের অতি বাড়াবাড়ি, যা কিছু খারাপ সবই হচ্ছে অন্যদল অন্য মনের মানুষ। আর যা কিছু ভালো সবই হচ্ছে তাদের।

‘এই যে স্বৈরাচারী মনোভাব এজন্যই বাংলাদেশের মানুষ দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। আপনাকে কেউ দোষারোপ করলে সেটাতো খন্ডন করতে হবে। সেই ৭২ থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শুধু দোষারোপই করছে। আর কেউ খন্ডন করতে গেলেই তাকে আইনের মুখোমুখি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা স্বাধীনতার ৫০ বছরে পরপর তিনবার ক্ষমতায় রয়েছে; তাদের অনেক বড়ো সুযোগ ছিলো জাতীয় পর্যায়ে একটি ঐক্য গড়ে তোলার, কিন্তু তারা সেটা করেনি। তারা ভালো কিছু করতে পারতো সেটা না করে দলীয় মনোবৃত্তি ভালো করে দেখানোর চেষ্টা করছে। এটা অনেক দিন চলতে থাকবে বলে আমার ধারণা।

বিডি২৪লাইভ: করোনা পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে কোন দল কতটুকু সফল ও ব্যর্থ?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: এটা বলার সময় এখনো হয়নি। একটি দল যদি টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকে তাহলে সেই দলের তো একটু তেল চর্বি বেশি থাকে। দম বেশি থাকে। সে দিক থেকে আওয়ামী লীগের তৎপরতা বেশি দেখা যায় মিডিয়াকে তারা ম্যানেজ করতে পারে। নতুন নতুন মিডিয়া তারা নিজেদের মতো করে অনুমোদন দিয়েছে। তারাও বাহবা দিচ্ছে একটু বেশি। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে আছি, যদি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি নির্যাতন নিপিড়নকারী বিএনপি মানুষের পাশে রয়েছে।

বিডি২৪লাইভ: যারা বলছেন আপনাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থেকে দল চালাতে পারছেন না, তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল : হোসেন তারেক রহমান দল চালাতে পারছেন না এটা তাদের একটি মানসিক প্রশান্তি। যদি তারেক রহমান দল চালাতে না পারেন তাহলে তারা এসে দায়িত্ব নিয়ে দল চালিয়ে দেখান। সেটাতো পারবেন না। বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এর পরেও যদি যাই, জিয়া পরিবার ছাড়া অন্য কারো নেতৃত্ব গ্রহণ করবে না। এটা পরীক্ষীত। সুতরাং এটা যারা বলেন তাদের সাথে আমরা বিনয়ের সাথে দ্বিমত করি।

বিডি২৪লাইভ: বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে সরকারের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত আবেদন করা হবে কিনা?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল : এটা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে কিন্তু সরকার এটা করবে না। করবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয় আপনার দরখাস্ত দেন। দরখাস্ত দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে এটাকে বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যিনি আছেন তিনি হয়তো ব্যক্তিগত ভাবে এটা চাচ্ছেন না। একারণে দল এখানে সংযুক্ত হবে কিনা, আত্মীয় স্বজনরা তো চেষ্টা করছেই; কথাতো একই। আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সুত্র : বিডি২৪লাইভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *