মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে মুসলিম দেশ!

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো আপত্তি থাকা স্বত্ত্বেও রাশিয়ার ক্ষে’পণা’স্ত্র কেনার কথা ভাবছেন। আজ রবিবার সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমেরিকার নির্মিত প্যা’ট্রিয়ট ক্ষে’পণা’স্ত্র কেনার কোনো বিকল্প সুযোগ রাখা হয়নি তুরস্কের জন্য। ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হলেও এফ-৩৫ যু’দ্ধবিমান আমাদেরকে হস্তান্তর করা হয়নি। এরদোয়ানের পুরো সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগে তার সংক্ষিপ্ত একটি অংশ প্রকাশ করা হয়েছে।

এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে বের করে দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নি’ষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে জোরালো আ’পত্তি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই ব্যবস্থা এফ-৩৫ যু’দ্ধ’বিমানের জন্য বড় হু’মকি। তবে তুরস্ক দাবি করছে, এস-৪০০ ন্যাটোর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি!

ইরাককে ইস’রাই’লের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের আ’হ্বানকারীদের বি’রুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ইরাকের বিচার বিভাগীয় সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই প’রোয়ানা জারির তথ্য জানায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল।

এর আগে শুক্রবার ইরা’কের ইরবিল শহরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের তিন শ’ নেতা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো ইবরাহীমি চুক্তিতে যুক্ত হয়ে ইস’রাইলের সাথে স্বাভা’বিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানান।

ইরাকি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্মেলনের সাথে জড়িত তিন ব্যক্তির নামে গ্রেফ’তারি পরো’য়ানা জারি হয়েছে। তারা হলেন, উইসাম আল-হারদান, মিছাল আল-আলুসি ও সাহার আল-তায়ি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাকিদের নাম প্রকাশিত হলে তাদের বি’রুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ সূত্র : আরব নিউজ

এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিন ছাড়তে হবে ইসরাইলকে!

ইসরাইলকে কঠিন হুঁ’শিয়া’রি দিল ফিলিস্তিন। আগামী এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছাড়তে হবে। নতুবা রাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইলকে দেওয়া স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হবে। শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিজের বক্তব্যে এই আলটিমেটাম দিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অবশ্যই বলা উচিত যে, দখলদার ইসরাইলকে আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমসহ অন্যান্য দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে। এদিকে গাজায় ইসরাইলের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চার মাস পর আগামী অক্টোবরে প্রথমপর্বের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় আবাসন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গাজা পুনর্গঠনের জন্য কাতারের কমিটি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক দল এই পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। গাজার আবাসন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাজি সারহান জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশ গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে এবং অক্টোবরে তারা কাজ শুরু করতে রাজি হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

১৯৬৭ সালে ওই অঞ্চল দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর গত প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মাহমুদ আব্বাস বলেন, যদি ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চল ছেড়ে যেতে ইসরাইল অস্বীকৃতি জানায় তবে তিনি আর ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবেন না। অধিকৃত ওই অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ফিলিস্তিন।

আব্বাস বলেন, ‘আমরা দখলদার শক্তি ইসরাইলকে পূর্ব জেরুজালেমসহ ১৯৬৭ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড থেকে চলে যেতে এক বছর সময় দিয়েছি।’ আব্বাস আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ইসরাইল ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের চূড়ান্ত মর্যাদা দেওয়ার বিষয় নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধানে এ বছরজুড়ে কাজ করতে ফিলিস্তিনিরা প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, তবে এ সময়ের মধ্যে সংকট সমাধান না হলে, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ইসরাইলের স্বীকৃতি কেন বজায় রাখতে হবে? ফিলিস্তিনি নেতা আরও বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূমি দখলের বৈধতার প্রশ্নে প্রয়োজনে ফিলিস্তিনিরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে।

আব্বাসের এ দাবি ইসরাইল তাৎক্ষণিকভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্যের জবাবে ইসরাইলের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেন, ‘যারা সত্যিকার অর্থে শান্তি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে তারা জাতিসংঘের এমন একটা প্লাটফর্ম থেকে বিভ্রান্তিকর আলটিমেটাম ছুড়ে দেয় না।

আব্বাসের বক্তব্য আবারও প্রমাণ করল, তিনি আর প্রাসঙ্গিক নন।’ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বরাবরই ইসরাইলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঘোরবিরোধী। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে, দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সমাধানের একমাত্র পথই হচ্ছে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *