যুক্তরাষ্ট্র আউট তুরস্ক ইন !

অবশেষে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি বিদায় নিলো মার্কিন বাহিনী। ফলে দুই সপ্তাহ ধরে লোকে লোকারণ্য কাবুল বিমানবন্দরে এখন সুনশান নীরবতা। এ অবস্থায় বিমানবন্দরটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে তুরস্ক। আর সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে কাতারের সঙ্গেও আলোচনা করছে তালেবান। মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় একটি টেলিভিশনে

দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভেস লে দ্রিয়ান ফ্রান্স২ টেলিভিশনকে বলেছেন, এসব আলোচনার লক্ষ্য যত দ্রæত সম্ভব কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন আফগানিস্তান ছাড়তে চাওয়া লোকজন বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে বের হতে পারেন। তিনি বলেন, (কাবুল) বিমানবন্দর সুরক্ষিত

করার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। বিমানবন্দরটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাতারি ও তুর্কিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর ব্যবহার যেন নিরাপদ হয়, আমাদের অবশ্যই সেই দাবি জানাতে হবে। তুরস্ক কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, এমন খবর গত জুলাইয়েই শোনা গিয়েছিল। ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্স টুডের খবর অনুসারে,

এ বিষয়ে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেছিলেন, আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কারণে সেখানে নিরাপত্তা হুমকি বাড়ছে। তুর্কি সেনারা কীভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষা করবে সেসব বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

৩১ আগস্ট আফগানিস্তান সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগেই তুরস্ক কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু গত ১৫ আগস্ট তালেবান অনেকটা বিনাবাধায় আফগান রাজধানীর দখল নিলে বিষয়টি বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। তবে চলতি সপ্তাহে প্রথমবারের মতো তালেবানের সঙ্গে বৈঠক হয় তুর্কি কর্তৃপক্ষের।

ফরাসি মন্ত্রী লে দ্রিয়ানের ভাষ্যমতে, তুরস্কই তালেবান-নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানেও কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে। অফরদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যত নেতা মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। মঙ্গলবার তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

দুদেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বারোপের আভাষ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ফোনালাপকে। এক বিবৃতিতে এরদোগানের অফিস জানিয়েছে, দুই নেতার মধ্যে আলোচনায় আঞ্চলিক ও দুদেশের মধ্যেকার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। এর আগে আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাহউন বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে এরদোগানের বৈঠক হয়েছিল।

এভাবে সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি তুরস্কে আমিরাতের বিপুল বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। লিবিয়া সংঘাত নিয়ে দ্ব›েদ্ব জড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চাচ্ছে আংকারা। উপসাগরীয় অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব ও পূর্ব ভ‚মধ্যসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে এসব দেশের কলহ চলে আসছিল। আমিরাতের সরকারি বার্তা

সংস্থা ডবিøউএএম বলছে, ফোনালাপে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নেই জোর দেওয়া হয়েছে। এভাবে দুদেশ তাদের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। গেল পাঁচ বছর ধরে তুরস্ক প্রকাশ্যেই অভিযোগ করে আসছিল যে এরদোগান বিরোধী সামরিক অভ্যুত্থানে অর্থায়ন করেছে আমিরাত। এছাড়া লিবিয়ায় তুরস্কের স্বার্থ আগ্রাসীভাবে খর্ব করার দায়ও

উপসাগরীয় দেশটির ওপর চাপিয়েছে আংকারা। মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আমিরাতের দ্ব›দ্ব রয়েছে। যেমন, আরব বসন্তের পক্ষে তুরস্কের অবস্থান, নতুন গণতন্ত্রে তুরস্কের সমর্থন এবং মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড নেতৃত্বাধীন সরকারকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল আমিরাত। এসব সত্তে¡ও

গত ১৮ আগস্ট তাহউনের সঙ্গে বৈঠককে দুদেশের মধ্যে নতুন যুগের সূচনা বলে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যকার মতভেদ ভুলে তাদের ভিন্ন এক পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে তুরস্ক। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, স্পর্শকাতর পররাষ্ট্রনীতি ও দেশটির অস্পষ্ট ব্যবসায়িক

লেনদেনের ক্ষেত্রে তাহউন বিন জায়েদ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের তিনি সৎভাই ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের আপন ভাই। ১৮ আগস্ট এরদোগান বলেন, আসছে দিনগুলোতে আমরা মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছি।

দুদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে আলোচনার পর সেই বৈঠকের আয়োজন করা হবে। এভাবে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবো বলে প্রত্যাশা করছি। কারণ আমাদের জনগণ একই ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুসারী। পরস্পরের মধ্য আলোচনায় বড় ভ‚মিকা রাখার সুযোগ আমাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

প্রশাসনের অধীন আবুধাবি অনেকটা বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন তুরস্কের কর্মকর্তারা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সবচেয়ে বড় শত্রæ বলে মনে করে আমিরাত। তুরস্কের আরেক কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে তারা একা দাঁড়াতে পারবে না। এ অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে আমিরাত অনেকটা বিচলিত বোধ করছে।

এদিকে সউদী আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কেও কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সউদীরা এখন বিদেশি বিনিয়োগ টানতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করেছে। করোনা মহামারি বাড়তে থাকায় গত মাসে আামিরাতের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সউদী। তুরস্কের ভাষায়,

সউদীর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরদোগান বলেন, তুরস্কে আমিরাতের ভবিষ্যত বিনিয়োগ নিয়ে তাহউন বিন জায়েদের সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে। আল-জাজিরা, রয়টার্স, ডেইলি সাবাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *