আবারো সমঝোতায় বসছে সৌদি-ইরান!

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে চতুর্থ দফা আলোচনা ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত হবে। ইরাকে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ইরাজ মাসজেদি এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে এ পর্যন্ত তিন দফা আলোচনা হয়েছে। চতুর্থ দফা আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

ইরাকের সঙ্গে ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরাকি জনগণের সঙ্গে ইরানের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ইরাকে বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এ ক্ষেত্রে শুধু ইরানই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরাকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর জন্য ইরান বার্ষিক চার কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার গ্যাস রপ্তানি করে থাকে। ইরাক অনিয়মিতভাবে গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করে থাকে।ইরাজ মাসজেদি বলেন,

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইরান সব সময় ইরাকের পাশে ছিল এবং এখনও আছে।ইরাকের বিপুল সংখ্যক ছাত্র ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অধ্যয়ন করছে বলেও জানান তিনি।

আফগান নারীদের পোশাক নিয়ে নির্দেশনা দেয়ার অধিকার পাশ্চাত্যের নেই!

আফগানিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও হিজবে ইসলামী দলের প্রধান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার বলেছেন, আফগানিস্তানে নারীদের পোশাক নিয়ে কোনো প্রকার নির্দেশনা দেয়ার অধিকার পাশ্চাত্যের নেই।সোমবার কাবুলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলামের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আফগানিস্তানে নারীদের পোশাক নির্ধারিত থাকবে। তালেবানের উচিত হবে যে নারীই পোশাকের নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলবে, তাদেরকেই কাজের অনুমতি দেয়া।হেকমতিয়ার বলেন, ‘পাশ্চাত্যের কোনো অধিকার নেই আমাদের দেশে নারীদের পোশাকের বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা দেয়ার।’

সাবেক আফগান প্রধানমন্ত্রী বলেন, তালেবানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর দেশটিতে যদি একটি সমন্বিত সরকারও গঠন করা হয়, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি দেবে না।হেকমতিয়ার বলেন, নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রতিষ্ঠিত কাউন্সিল তালেবানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানদেরও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তালেবান সরকার কার্যকরভাবে কাজ করুক এবং এর ফলে আমরা আফগান জনগণের কাছে আবেদন করছি তারা যেনো নতুন সরকারকে সহায়তায় একত্রে কাজ করে।’একইসাথে আফগানিস্তানে অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে আবার ভারতকে হুঁশিয়ারি করেছেন হেকমতিয়ার।

তিনি বলেন, ‘ভারতসহ সব দেশেরই আফগানিস্তানে শান্তি বজায় রাখায় স্বার্থ রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মতোই ভারতের উচিত হবে অতীতের ভুলকে স্বীকার করে নেয়া এবং কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা করা।’

তিনি আরো বলেন, কাবুলের বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে আফগান জনগণকে আশ্বস্ত করা ভারতীয় সরকারের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার আফগানিস্তান থেকে বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারের একদিন আগে এই সাক্ষাৎকার দিলেন গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে।তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলে দেশটিতে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দখলের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দেশটি থেকে
মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

চুক্তি অনুসারে ক্ষমতাসীন থাকা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সরকারের সমঝোতার জন্য তালেবান চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো
সমঝোতা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের মধ্যে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাতে শুরু করে তালেবান। মে থেকে অভিযান শুরুর পর সাড়ে তিন মাসের মাথায় ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলের অধিকার নেয় তালেবান যোদ্ধারা।

সূত্র : জিও নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *