ছবি তোলার পর দুস্থ ও প্রতিবন্ধীর মাঝে দেয়া ত্রান ফিরিয়ে নিল

সাভারে লিস্টভুক্ত করে দুস্ত শ্রমজীবী ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে অনুষ্ঠানের দুএকদিন আগে থেকে ঢাকা জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে ত্রাণের কার্ড বিতরণ করা হলেও আজ অনুষ্ঠানে গিয়ে ত্রাণ হাতে পেয়ে ছবি তুলার শিকার হলেও ত্রাণ ফিরিয়ে নিয়েছেন নেতারা। আজ সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে সাভার কলেজ মাঠে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সাভার যুবলীগের আয়োজনে শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ আমন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য শেষে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, তেল ১ লিটার, ডাল ১ কেজি, পেঁয়াজ ২ কেজি ও লবন আধা কেজি ত্রাণের প্যাকেজ বিতরণের জন্য আগেই দুস্থ ও প্রতিবন্ধীর মাঝে এক ধরনের কার্ড বিতরণ করা হয়। তবে কার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে আসলেও ত্রাণ পাননি প্রতিবন্ধীরা। ছবি তুলে ত্রাণ ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কার্ডধারী প্রতিবন্ধী।

প্রতিবন্ধী জহুরা বলেন, আমাদের ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে যুবলীগ নেতা মিজান কার্ড দিয়েছেন। পরে আজ সকাল থেকে ত্রাণের জন্য এসে বসেছিলাম। আমরা প্রতিবন্ধী হওয়ায় নেতারা আমাদের ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে সামনে নিয়ে বসান। আমাদের হাতে ত্রাণ দিয়েছিল। পরে সাংবাদিকরা ছবি তোলার পর আমাদের হাত থেকে ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে আবার রেখে দেয়। যারা ত্রাণের প্যাকেট হাত থেকে নিয়ে রেখে দিয়েছে তারাও নেতা, কিন্তু আমরা চিনি না। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতিবন্ধী জয়নাল বলেন, আমাদের আগেই কার্ড দেওয়া হয়েছে। কার্ড থাকলেও ত্রাণ দেয়নি ওরা। ত্রাণ যদি নাই দেবে তাহলে কার্ড দিয়ে আমাদের এখানে ডেকে নিল কেন। আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি।

এ রকম আরও কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ছবি তুলেই হাত থেকে ত্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিবন্ধী, আমাদের ত্রাণ না দিয়ে সক্ষম লোকদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত ছিলাম। শেষে আমাদের বলেছে আর ত্রাণ নেই।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএস মিজান বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমরা উপহার বিতরণের পর বিতরণকৃত কার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলিনি। কার্ডধারীদের সঙ্গে অনেকেই এসেছেন, তারা উপহার নেওয়ার পর কার্ড তাদের সঙ্গে আসা লোকজনকে দিয়ে দেন। তাছাড়া আমি নিজেই প্রতিবন্ধীদের সামনে নিয়ে উপহারের প্যাকেট বিতরণ করেছি। প্রায় ৪০টি চেয়ার ফাঁকা ছিল। উপহার নেওয়ার লোক ছিল না। তারপরও যদি কেউ না পেয়ে থাকে তাদের আমার অফিসে পাঠিয়ে দেন। আমি আরও বেশি করে দিয়ে দেব।

অনুষ্ঠানে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান, ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএস মিজানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *