বলাৎকারের পর মাদরাসাছাত্রকে হত্যার রোমহর্ষক জবানবন্দি দিল

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্র আরাফাত হোসেনকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মাদরাসার মুহতামিম মোশারফ হোসেন। রোমহর্ষক জবানবন্দিতে তিনি জানান, বলাৎকারের ঘটনা প্রকাশের ভয়েই আরাফাতকে হত্যার পথ বেছে নেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ মাদরাসা শিক্ষক বলেন, এর আগেও তিনি আরাফাতকে বলাৎকার করেছেন। কিন্তু ২১ আগস্ট রাতে বলাৎকারের পর আরাফাত বিষয়টি তার বাবাকে জানানোর কথা বলে। এরপর তাকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ মাদরাসা সংলগ্ন ডোবায় ফেলে দেন তিনি।

মোশারফ হোসেন ওই উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ শামসুল হক (র.) নুরানী হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার মুহতামিম। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। নিহত আরাফাত চরমজলিশপুর ইউনিয়নের ছয়আনি গ্রামের ফানা উল্লাহর ছেলে।

গত ২২ আগস্ট সকালে মাদরাসাছাত্র আরাফাত হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় আরাফাতের বাবা ওই মাদরাসার মুহতামিমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ওই রাতেই মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে মুহতামিম মোশারফ হোসেন ও আরাফাতের এক সহপাঠীসহ এজহারে উল্লেখ থাকা আরো দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত সোমবার মুহতামিম মোশারফ হোসেনকে চারদিনের, সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন ও নুর আলীকে তিনদিনের রিমান্ড দেয় আদালত। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃত জোবায়ের আলম ফাইজকে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেয়।

দাগনভূঞা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, চারদিনের রিমান্ড শেষে মুহতামিমকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মুহতামিমের দেওয়া জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার স্বীকারোক্তি অসংলগ্ন মনে হলে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *