মেয়ের জন্য মা থেকে ‘বাবা’ হয়ে ওঠার গল্প

দীর্ঘদিন ধরে পুরুষের বেশেই দোকান চালাতেন তিনি। কেউই জানত না তার আসল পরিচয় প্রেমিককে ভরসা করে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে ঘর বেঁধেছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা তরুণী। কিন্তু, সেই সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই তাকে একা রেখে পালিয়ে যায় প্রেমিক। তবে থেমে থাকেননি ফারহিন ইশতিয়াক। জন্ম দেন একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের। “একলা মেয়ে” থেকে “একলা মা” হয়ে ওঠেন তিনি।

কিন্তু এ নিষ্ঠুর সমাজ একলা মায়েদের সহজে ছেড়ে দেয় না। তাই একলা মা থেকে পুরুষ সেজে বাবা পরিচয়ে এই সমাজে মেয়েকে মানুষ করে চলেছেন লাহোরের ফারহিন ইশতিয়াক।ফারহিনের কথা প্রথম জানা যায় পাকিস্তানের লেখক জাইন উল হাসানের লেখা একটি টুইট থেকে। তখন ফারহিনের বয়স ছিল ৪১। পাকিস্তানের লাহোর শহরের আনারকলি বাজারে ছোট্ট একটি দোকান আছে তার। সবাই সেখানে তাকে পুরুষ হিসেবেই চেনেন, প্রতিদিনই তিনি পুরুষদের মত পোশাক পরে দোকানে বসেন।

ফারহিন জানান, এই সমাজ একলা মায়েদের সহজে মেনে নেয় না, কৌতূহল আর ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকায়। তাই তিনি “মা” হয়েও সন্তানের “বাবা” সেজে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন।নতুন শহরে মেয়েকে নিয়ে একা থাকাটা যতটা সহজ মনে করেছিলেন ফারহিন, চলার পথটা ততটাও মসৃণ হয়নি। পাকিস্তানের মতো পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থায় মহিলাদের প্রকাশ্যে হেনস্থা করাটা খুবই সাধারণ বিষয় ছিল তখনকার সময়ে।

নানা রকম কটূক্তি, শারীরিক হামলা, যৌন হেনস্তা শিকার হওয়ার ভয় তো একদমই স্বাভাবিক।সেই ভয় থেকে বাঁচতেই তিনি “বাবা” সাজতে শুরু করেন। এমনকি, সমাজের “কুনজর” থেকে বাঁচতে ফারহিন ছদ্মনামও নিয়েছেন। কেউ বুঝতেও পারেননি, এই ছদ্মনামের পেছনে লুকিয়ে আছেন একজন “মা”, একলা “মা”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *