শিক্ষককে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অভিনব কায়দায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে দিনাজপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অভিনব কায়দায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রংপুর থেকে একাধিক নাম ব্যবহারকারী শাহীনা বেগম ওরফে শীলা আক্তার ওরফে ইসা (৩৩) ও মমিন মিয়া (৩৪)

কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবে রংপুর মহানগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতারণা করে আসছে বলেও জানায় পুলিশ। শুক্রবার (২০ আগষ্ট) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিয়ে এ তথ্য জানান, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) কাজী মোত্তাকি ইবনু মিনান। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত (সেবিকা পরিচয়ধারী) দিনাজপুর জেলার খানসামা কাচনিয়া এলাকার কাশেম আলীর মেয়ে শাহীনা বেগম @ শিলা @ ইসা (৩৩), এবং তার স্বামী বোচাগঞ্জের সেতাবগঞ্জ মিলের পাড় এলাকার আব্দুল মোমিন (৩৪)।

কাজী মোত্তাকি ইবনু মিনান উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, তাদেরকে রংপুর মহানগরীর কটকি পাড়ার পিটিআই রোডের বাসা নং-৩১৬-৩ এ, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ডিবির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ ফারুক আহমেদ এর নেতৃত্বে এসআই আবু ছাইয়ুম তালুকদার, এসআই বাবুল ইসলাম, নারী কং/৪০০ গোলাপী পারভীন এবং অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেন। ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে তারা এই ধরনের ব্লাকমেইলিং করে টাকা হাতিয়ে নিতো। সংবাদ

সম্মেলনে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা কাজী মুত্তাকী মিনান জানান, প্রতারণার শিকার ফারুক হোসেন নামের এক স্কুল শিক্ষকের মামলার সূত্র ধরে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে দিনাজপুরের পপুলার ডায়াগোনোস্টিক সেন্টারে স্ত্রীর দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে (সেবিকা পরিচয়ধারী) শাহীনা বেগম শিলার সাথে পরিচয়ের পর মোবাইল নম্বর লেনদেন হয় ওই স্কুল শিক্ষকের। পরে তাকে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে কথাবার্তার এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক জানায় যে, তার বাম হাতে সমস্যার কারণে তিনি একজন ভাল ডাক্তার দেখাবেন।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক শিলা ভালো চিকিৎসা করানোর কথা বলে ওই শিক্ষককে গত (১১ আগষ্ট) রংপুরে ডেকে আনেন। প্রথমে তারা মিলিত হয় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে। সেখানে ওই শিক্ষক তার মোটরসাইকেলটি হক পেট্রোল পাম্পে রেখে বাস যোগে রংপুরে আসে। চিকিৎসক আসতে বিলম্ব হওয়ার কথা বলে কৌশলে কটকিপাড়ায় কথিত ভাবির ভাড়া বাসায় বিশ্রামের জন্য ওই স্কুল শিক্ষককে নিয়ে যায় শিলা। ওই বাসায় যাওয়ার একটু পরে (অনুমান ১০-১৫ মিনিট) মোঃ মমিন (৩৪) সহ অজ্ঞাতনামা ২ (দুই) যুবক রুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে।

পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সাথে থাকা শিলা এবং নুপুর নামের ওই দুই নারীর সাথে খাটের ওপর বসিয়ে স্কুল শিক্ষকের বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এবং তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করে মমিনসহ ওই চক্রের যুবকরা। না দিলে ইন্টারনেটে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়াসহ পুলিশে দেয়ার হুমকি দেয় তারা।

কাজী মুত্তাকী মিনান জানান, সেখান থেকে বের হয়ে প্রতারণার শিকার ওই শিক্ষক ৩৫ হাজার টাকা বিকাশে দেয়। এর পরও তারা ওই স্কুল শিক্ষকে টাকার জন্য ফোনে চাপ দিতে থাকলে তিনি কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ডিবি’র এ কর্মকর্তা জানান, এই চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ চক্রটি এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রথমে পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্পর্ক তৈরি করে।

পরে বেড রিলেশন এবং তা ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাক মেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। গ্রেফতাকৃতরা নিজেদেরকে ভূয়া সেবিকা, শিক্ষিকা, ম্যাজিষ্ট্রেটসহ বিভিন্ন পরিচয়ে বিভিন্ন ছদ্মনামে পার্বতীপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমানে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে বলে জানান ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *