তালেবান এতদিন খুবই নির্মম নীতি অবলম্বন করেছে, তবে এবার কি হবে তা অজানা

আফগানিস্তানে তালেবানের অবিশ্বাস্য সামরিক সাফল্যের দিকে আফগান সরকার তো বটেই, পুরো বিশ্বই এখন হা হয়ে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ গত সাত দিনে ডজন-খানেকের বেশি প্রাদেশিক রাজধানী শহর তাদের দখলে চলে গেছে।

এক্ষেত্রে আরও যা বিস্ময়কর তা হলো, এগুলোর মধ্যে সাতটিই হলো আফগানিস্তানের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ, যেখানে তালেবান অতীতে কখনই তেমন কর্তৃত্ব করতে পারেনি।

কট্টরপন্থি তালেবানের শাসনে কেমন হবে আফগানিস্তান, তা নিয়ে দেশটির নাগরিকদের পাশাপাশি পুরো বিশ্বে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। বিশেষ করে নারী অধিকার, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা, ভিন্নমত চর্চা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তালেবান এতদিন খুবই নির্মম নীতি অবলম্বন করেছে। তবে এবার ভোল পাল্টাতে শুরু করেছেন দলটির নেতারা।

আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দু’দিন পর গতকাল মঙ্গলবার কাবুলে গুরুত্বপূর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে কট্টরপন্থা পরিহারের ঘোষণা দিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তবে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কথা বলেছেন তিনি। নারীদের কাজ ও শিক্ষার কথা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে তাদের এই বক্তব্য দেশে-বিদেশে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না।

মুজাহিদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এবার তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ছক পাল্টেছেন। তাদের কৌশলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি আদায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে তাদের বিষয়ে সন্দেহ কাটছে না। পরিস্থিতি কি সত্যিই বদলাবে, তাদের বর্বরতার শিকল থেকে মুক্তি মিললে- এ নিয়ে অজানা শঙ্কায় সময় কাটছে আফগানদের।

সংবাদ সম্মেলনে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তারা সরকার গঠনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সব পক্ষ, সব গোষ্ঠী, সবার অন্তর্ভুক্তি তারা নিশ্চিত করবেন। কাজ সম্পূর্ণ হলে সরকার ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘নারীরা আমাদের সমাজে খুবই সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং তারা বাইরে কাজ করতে পারবে। তবে সেটা হবে শরিয়া আইনের কাঠামোর মধ্যে। তিনি সেই কাজের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা করেননি। তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তান আল কায়দা বা অন্য চরমপন্থি যোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে কিনা- এ ঝুঁকি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানের মাটি কারোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এটা স্পষ্ট করতে চাই, আফগানিস্তান আর কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়। যারাই এত দিন আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সবাইকে আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। শত্রুতর দিন শেষ হয়েছে। দেশের ভেতরে বা বাইরে- কোথাও কোনো শত্রু আমরা চাই না।’

গত ২০ বছর নেপথ্যে থেকে তালেবানের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসা জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই প্রথমবার ক্যামেরার সামনে এলেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মী আর ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, ‘২০ বছর সংগ্রামের পর দেশকে আমরা মুক্ত করতে পেরেছি, বিদেশিদের বহিস্কার করেছি। পুরো জাতির জন্য আজ একটি গৌরবের মুহূর্ত।’

সন্দেহ আর সংশয় নিয়ে আফগানিস্তানের দিকে তাকিয়ে থাকা বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তালেবান মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তারা আশ্বস্ত করতে চান যে, কারও কোনো ‘ক্ষতি করা হবে না’। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় যেতে চান না। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় নিয়ম মেনে চলার অধিকার আমাদের আছে। অন্য দেশের দৃষ্টিভঙ্গি, নিয়ম আর আইন অন্য রকম হতে পারে; কিন্তু নিজেদের মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিজেদের নিয়মকানুন তৈরি করে নেওয়ার অধিকার আফগানিস্তানের আছে।’ তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘শরিয়াহ আইন অনুযায়ী নারীদের অধিকার রক্ষায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। তারাও আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, কোনো বৈষম্য এখানে হবে না।’

গণমাধ্যমের কাজ নিয়েও ‘আশ্বস্ত’ করা হয় তালেবানের সংবাদ সম্মেলনে। মুজাহিদ বলেন, বেসরকারি গণমাধ্যম আফগানিস্তানে ‘মুক্ত ও স্বাধীনভাবে’ তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। তবে সবাইকেই তালেবানের ‘সাংস্কৃতিক কাঠামো’ মেনে চলতে হবে। গণমাধ্যমের কাজের কথা যখন আসবে, কোনো কিছুই ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যাওয়া চলবে না। আপনারা যারা সংবাদমাধ্যমে আছেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আপনারা ধরিয়ে দেবেন, যাতে আমরা জাতির সেবা করতে পারি। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করা গণমাধ্যমের উচিত হবে না। দেশের ঐক্যের জন্যই তাদের কাজ করা উচিত।

আফগানিস্তানে এর আগে যারা বিদেশিদের হয়ে ঠিকাদার ও দোভাষীর কাজ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে তালেবানের ভূমিকা কী হবে, সেই প্রশ্নও করেছিলেন সাংবাদিকরা। উত্তরে তালেবান মুখপাত্র বলেন, কারও প্রতিই আমরা প্রতিশোধ নেব না। যে তরুণরা এখানে বেড়ে উঠেছে, আমরা চাই না তারা চলে যাক। তারা আমাদের সম্পদ। কেউ কারও বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়বে না, জানতে চাইবে না যে আগে কার হয়ে সে কাজ করেছে। তারা সবাই নিরাপদ থাকবে। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা ধরার চেষ্টা এখানে হবে না।

মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের ‘স্থিতিশীলতা আর শান্তির জন্য’ সবাইকে তারা ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের যোদ্ধা, আমাদের সমর্থক, সবাই আমরা এটা নিশ্চিত করব, যাতে সমাজের সব পক্ষই আমাদের সঙ্গে থাকে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পুরো দেশ আমরা জয় করে নিয়েছি। সরকার গঠন হয়ে গেছে, সবকিছুই আরও অনেক স্পষ্ট হয়ে যাবে।

তালেবান নেতা দাবি করেন, কাবুলে কোনো বিশৃঙ্খলা হোক, তালেবান তা চায়নি। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল, তাদের যোদ্ধারা শহরের প্রবেশপথগুলোতেই অপেক্ষা করবে, যাতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া ‘মসৃণভাবে’ হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আগের সরকার এতটাই অযোগ্য ছিল যে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছুই করতে পারেনি। ফলে আমাদেরই তা করতে হয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমাদের শহরে প্রবেশ করতে হয়েছে।

অনিশ্চয়তার দোলাচল :ঝটিকা অভিযানে কাবুলসহ পুরো আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলেও এখনও অনিশ্চয়তার দোলাচলে সময় পার করছে দেশটির মানুষ। আশরাফ গনি সরকারের পতনের পর দু’দিন পেরিয়ে গেলেও গঠিত হয়নি নতুন কোনো সরকার। কাবুল দখল রক্তপাতহীন হলেও স্বাভাবিক হয়নি জীবনযাত্রা। অজানা আশঙ্কায় ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন নাগরিকরা।

তবে তালেবান চাচ্ছে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। এ জন্য নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানসহ কিছু পদক্ষেপ নিলেও তাতে বেশি সাড়া মিলছে না। তবে কাবুলের অনেক জায়গায় গতকাল রুটি ও ওষুধের দোকান খুলেছে। রাস্তাঘাটেও কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে বলে জানায় বিবিসি।
এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার, সরকারি কর্মীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা, নারীদের সরকারি কাজে অংশগ্রহণের আহ্বানসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে তালেবান। দলটি আহ্বান জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন সম্পূর্ণ আস্থার সঙ্গে কাজে ফিরে আসেন।

তবে সরকার গঠনে বহুমুখী চাপের মুখে রয়েছে তালেবান নেতৃত্ব। অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। তালেবান নিয়ন্ত্রিত সরকারে দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারে তার সিদ্ধান্তের পক্ষে ফের দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বলেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধ তিনি পরবর্তী প্রেসিডেন্টের জন্য রেখে যেতে চান না। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার জন্য দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও আফগান সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের অনিচ্ছাকে দায়ী করেছেন তিনি।

চরম বিশৃঙ্খলার কারণে বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যাওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার কূটনীতিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে আবার কাবুল বিমানবন্দর চালু হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তাদের কূটনীতিক ও নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। তবে রবি ও সোমবারের মতো বিমানবন্দরে এখন আর বেশি লোক নেই। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বহু আফগানের মরিয়া দেশত্যাগের চেষ্টার কারণে কাবুল বিমানবন্দরে আগের দু’দিন বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়। বিশৃঙ্খলায় হতাহতের ঘটনায় বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবার অংশগ্রহণে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি নতুন সরকার গড়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যে সরকার হবে ঐক্যবদ্ধ, সবার অংশগ্রহণমূলক, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং যেখানে নারীদেরও অংশগ্রহণ থাকবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন আফগান জনগণকে পরিত্যাগ না করে। গুতেরেস আফগানিস্তানে বৈশ্বিক সন্ত্রাসের হুমকি মোকাবিলায় সব হাতিয়ারকেই কাজে লাগানো এবং তালেবানের মানবাধিকার বিশেষ করে নারী অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বের দেশগুলোকে আহ্বান জানান।
এএফপি জানায়, তালেবানকে চাপে রাখতে জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আফগানিস্তানে উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিতে শুরু করেছে। মূলত পশ্চিমা সহায়তা নিয়েই এতদিন চলছিল তাদের মদদপুষ্ট সরকারগুলো। তবে পশ্চিমা সহায়তার কতটা কাজে লেগেছে আর কতটা দুর্নীতির গ্রাসে চলে গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা :আফগানিস্তানের সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তাদের ‘পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের’ সঙ্গে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। দলটির এক ঘোষণায় বলা হয়, ‘সরকারি সব কর্মকর্তার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হচ্ছে। তাই আপনারা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আপনাদের স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন।’

বিবিসি জানায়, আফগানিস্তানে যারা সরকারের হয়ে অথবা পশ্চিমা সমর্থিত সংস্থাগুলোর হয়ে, বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের জন্য দোভাষীর কাজ করেছেন, তারা প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন বলে শঙ্কা বিরাজ করছিল; এমন পরিস্থিতিতেই এ ঘোষণা দিল তালেবান।
নির্মম শাস্তি দেওয়ার জন্য তালেবানের পরিচিতি আছে। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও আছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কট্টরপন্থি এই গোষ্ঠীটি। দেশটির পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সরকারি চাকরিজীবীদের নিজ অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়ে কারও ওপর প্রতিশোধ না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ২০ বছর পর ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরা তালেবান। আলজাজিরা জানায়, তালেবানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গতকাল কাজে ফিরেছে কাবুলের মেয়র ও দেশটির ভারপ্রাপ্ত গণস্বাস্থ্যমন্ত্রী।

কাবুলের জীবনযাত্রা এখন কেমন :বিবিসি জানায়, শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা, খুব একটা গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না। মানুষজন ভীত। তাই সবাই ঘরের ভেতরেই থাকছেন। খোলা কয়েকটি মুদি দোকান থেকে মালপত্র কিনতে পারছেন মানুষজন, কিন্তু বড় মার্কেট এবং শপিংমলগুলো বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই ডলারের বিনিময় মূল্য অনেক বেড়েছে। ফলে আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় আফগানিস্তানে সম্প্রতি সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে।
তবে বাইরে যাওয়া এবং মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকি ভিডিও করাও যাচ্ছে। বিবিসির এক সাংবাদিক বলেছেন, তিনি ভেবেছিলেন, তাকে হয়তো ভিডিও করতে বা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তাকে কোথাও বাধা দেওয়া হয়নি অথবা জিজ্ঞেস করা হয়নি আমি কে বা কেন এটা করছি।

শহরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে তালেবান, এমনকি যান চলাচল ব্যবস্থারও। তাদের সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি মোড়ে তারা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা যে শহরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেটা তারা নিশ্চিত করছে। তারা বলেছে, তারা শহরের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। তারা যানবাহন তল্লাশি করছে, এমনকি তাদের তালেবান সহকর্মীদেরও। এর কারণ কী জানতে চাইলে তারা বলেছে, এসব গাড়ি এর আগে সরকারি কর্মকর্তারা ব্যবহার করতেন এবং সেখানে মালপত্র লুটকারীরা থাকতে পারে, যারা তালেবানের নামে দুর্নাম রটাতে পারে।

সরকার গঠনে আলোচনা :আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও এক সময়ে দেশটির শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে কাবুলে আলোচনায় বসেছেন তালেবান নেতা আমির খান মুত্তাকি।

তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেছেন, ‘এটি সমন্বিত আফগান সরকার হবে।’ আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, কিছু কিছু আলোচনা মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছে। গনি দেশ ছেড়ে পালানোর পরও এ রকম আলোচনা চলছে। কাতারের দোহায়ও সরকার গঠনের আলোচনা চলছে। এদিকে কাবুলে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে তালেবান প্রশাসন। তার নাম মৌলভী আবদুর রহমান মনসুর।

আপাদমস্তক বোরকা বাধ্যতামূলক নয় :কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে গতকাল রাতে নারীদের বিষয়ে নীতিগত পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তালেবানের রাজনৈতিক মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেছেন, আফগান নারীদের জন্য আপাদমস্তক বোরকা পরা আর বাধ্যতামূলক নয়। তবে হিজাব বাধ্যতামূলক। যদিও হিজাবের ধরন নিয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি। সুহাইল শাহিন আরও বলেছেন, নারীরা চাইলে পড়াশোনা করতে পারবে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নারীদের পড়াশোনার সুযোগ থাকবে।

তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের :এএফপি জানায়, তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। তিনি বলেছেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না। তালেবানের কবলমুক্ত শেষ এলাকা পাঞ্জশির উপত্যকায় তিনি অবস্থান করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘তালেবানের সঙ্গে আমি একই ছাদের নিচে কখনোই অবস্থান করব না।’ তিনি নিজেকে দেশের তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *