রিকশাচালককে অমানসিকভাবে মারধর, যুবক গ্রেপ্তার

লকডাউন চলাকালীন সময়ে কক্সবাজারে ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে রিকশাচালককে অমানসিকভাবে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত আবদুস শুক্কুর তারেক নামের এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রায় এক মাস আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই যাত্রী নিরীহ রিকশাচালককে রবিবার দ্বিতীয় দফায় মারধরের ঘটনাটি ঘটায়।

রবিবার কক্সবাজার শহরের আইবিপি মাঠ নামক সড়কে বিকশাচালককে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি পুলিশ সুপারের নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন তিনি।

এমনকি ঘটনার এক দিন পর গতকাল সোমবার এসপি’র নির্দেশের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই নির্যাতনকারী সেই যাত্রীকে পুলিশ আটক করতে সমর্থ হয়েছে। আটক হওয়া যাত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার রিকশাচালক সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করেছেন।

রিকশাচালককে নির্যাতনকারী যাত্রী পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর সোমবার বিকালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান- ‘কেউ যদি আইন হাতে নেয় তাকে অবশ্যই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। একজন দরিদ্র রিকশাচালককে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার ওপর অমানবিকভাবে মারধরের পর তাকে রাস্তার কাদায় টেনে হেঁচড়ে পার পেয়ে যাবেন এমন ভাবনার দিন আর নেই।’

পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে পড়লে সমাজের কাছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জবাবদিহিতার আওতায় আসে। তাই ঘটনাটি নজরে আসার পর পরই জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে নির্যাতনকারীকে আটক করা হয়- বলেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রিকশাচালককে নির্যাতনকারী ব্যক্তি হলেন, শহরের মোহাজেরপাড়া এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে শুকুর আলী তারেক (৩০)।

লকডাউন চলাকালীন গত ঈদুল আজহার সময়ে অভিযুক্ত শুকুর আলী তারেক কক্সবাজার শহর থেকে চেইন্দা নামক এলাকায় যাওয়ার জন্য আব্দু শুক্কুরের রিকশা ভাড়া করেন। শুকুর আলীর গন্তব্য স্থান শহর থেকে দূরে হওয়ায় ভাড়া ২০০ টাকা দিতে বলেন রিকশাচালক আব্দু শুক্কুরকে। এতে শুকুর আলী ক্ষুব্ধ হয়ে চালককে মারধর এবং দেখে নেবে বলে ছেড়ে দেয়। ওই ঘটনার এক মাস পর রিকশাওয়ালাকে একা পেয়ে পূর্বের ঘটনা নিয়ে আবারও মারধর ও রাস্তায় টানা হেঁচড়া করে। মারধরের এই ভিডিও ভাইরাল হলে শুকুর আলী তারেক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

ভুক্তভোগী রিকশাচালক অভিযোগ করে বলেন, ‘লকডাউনে গাড়ি চলাচল বন্ধ। তাই রিকশা নিয়ে শহরের বাইরে চেইন্দা যেতে ২০০ টাকা ভাড়া চেয়েছিলাম। পরে যখন তিনি গালি-গালাজ করছেন তখন যা খুশি তা দিতে বলেছি। এরপরও তিনি শান্ত না হয়ে আমার সঙ্গে প্রভাব দেখান। তিনি এলাকার প্রভাবশালী, আমি ২০০ টাকা চেয়ে অন্যায় করেছি বলে আমাকে মারধর করেন। আমি চলে আসি। এক মাস পর আমাকে একা পেয়ে আগের ঘটনাটির জন্য আবারও মারধর করেন এবং রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে আহত করেন।

অভিযুক্ত শুকুর আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সেই অনেক আগে ঘটনাটি মিমাংসা হয়ে গেছে। আবার কীভাবে ঘটনাটি ঘটল তা আমি জানি না। তবে ভাইরাল ভিডিওটি আমি দেখেছি। আমার স্বামী আবার কেন তাকে মারল, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার স্বামীকে বলেছি রিকশাচালকের দেখা পেলে সেই আগের ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। কিন্তু এই কাজ কেন হয়েছে তা এখনো আমি জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *