চীন-তালেবান বৈঠকে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র

চীনের সঙ্গে বৈঠক করায় ক্ষো’ভ ঝে’ড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, তালেবান বিশ্বব্যাপী তাদের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু জোর করে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় যদি তালেবান বসে তাহলে তারা পুরো বিশ্ব থেকে বি’চ্ছিন্ন হবে। আফগানিস্তান একটি বিশ্বচ্যুত

রাষ্ট্রে পরিণত হবে। চীনের সঙ্গে বুধবার তালেবানের বৈঠকের খবর প্রকাশ হওয়ার পরই ভারত সফররত অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রম’ন্ত্রী এমন বক্তব্য দিলেন। তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল চীনের সঙ্গে বৈঠক

করেছে বেইজিংয়ে। বৈঠকে চী’নের সঙ্গে তালেবান ভাল সম্পর্ক চায় বলে জানিয়েছে। চীনও তালেবানের দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তালেবান সরকার গঠন করলে আফগানিস্তান

এমন একটি দেশ হবে যেখানে জনগণের অধিকার থাকবে না। দেশটিতে নিজেদের জনগণের ওপর নিষ্ঠুরতা চলবে। এ কারণে পুরো বিশ্ব তা’লেবানের সরকারকে স্বীকৃতি দেবে না। বিশ্ব নেতাদের স্বীকৃতি পেতে হলে তালেবানকে পরিবর্তন হতে হবে। ব্লিঙ্কেন বেলেন,

তালেবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাচ্ছে। তারা আফগানিস্তানের প্রতি আ:ন্তর্জাতিক সমর্থন চায়। কারণ তালেবান নেতারা সম্ভবত বিশ্বব্যাপী নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে চান এবং তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান। কিন্তু জোর করে, অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখল করলে

কিংবা জনগণের অ’ধিকার ফিরিয়ে না দিলে তালেবান এসবের কিছুই পাবে না। সূত্র: দ্য ডন। অপর এক বৈঠকে বুধবার জাতিসংঘও জানিয়েছে, আফগান সরকারের সঙ্গে সম:ঝোতার টেবিলে না এলে তালেবানকে একঘরে করা হবে। জয়েন্ট :কোঅর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং

বোর্ডের এক বৈঠকে এ হুমকি দেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি ডেবরাহ লিয়নস। তিনি বলেন, সম’ঝোতার টেবিেলে না বসলে এবং সংঘাত চলমান রেখে এলাকা দখল ও নিষ্ঠুরতা অব্যাহত রাখলে

তালেবান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সত্যিকারের কোনো সমর্থক পাবে না। লিয়ন বলেন, এই এলাকায় শান্তি ফেরাতে তালেবানের দেশ ও অ’ঞ্চলগত দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছে, তারা কিভাবে কাজ করছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি আচরণ করছে। বিশেষ করে নারী ও

সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে তা’লেবানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাতে মনে হচ্ছে তালেবান যু’দ্ধ থামাতে চাচ্ছে না। গত কয়েক বছরে তালেবান দোহায় শান্তি আলোচনা মাধ্যমে কিছু কিছু এলাকা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কিন্তু

তাদের অবশ্যই আফগান সরকারের সঙ্গে সমাঝোতায় আসতে হবে, যোগ করেন লিয়ন। লিয়ন বলেন, তালেবান আফগানিস্তানে নারী-শিশুদের ওপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে। তালেবানকে সমর্থন করা মানে নারী শিশুর ওপর দ’মন পী:ড়নে সহায়তা করা। এই কাজটি কেউ

করতে রাজি নয়। তার দাবি, তালেবান ক্ষমতায় এলে নারীদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেবে, একনায়কতান্ত্রিক আচরণ করবে জনগণের সঙ্গে। এটা করতে দেওয়া হবে

না। কারণ এটা আ’ন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কাজ। আর এরকম একটি পরিবেশে নাগরিকরা তাদের জীবন সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *