ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের উপমা ও মুন্না

এ বছর ‘দ্য ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বাংলাদেশের উপমা আহমেদ ও ইউসুফ মুন্না। যুবসংগঠন‘ইভোলিউশন৩৬০’-

এর মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য এই পদক পান উপমা। আর কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে রিফ্লেকটিভ টিনসের জন্য পদক পান মুন্না।

প্রিন্সেস ডায়ানার স্মরণে তার দুই ছেলে (দ্যা ডিউক অব ক্যামব্রিজ এবং দ্যা ডিউক অব সাসেক্স)-এর উদ্যোগে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

উপমা আহমেদ ‘রিপাবলিক অব উইম্যান’র বিউটি উইথ ব্রেইন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে ‘ক্যানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র প্রভাষক হিসেবে কাজ করছেন।

পদক পাওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাবিদ উপমা আহমেদ বলেন, ‘প্রিন্সেস ডায়ানা

আমার কাছে বরাবরই দয়া ও আবেগের প্রতীক। অ্যাওয়ার্ডটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে সহমর্মিতা এবং অধ্যবসায়ের সংমিশ্রণে বিশ্বকে পরিবর্তন করতে।’

২০১৬ সালে উপমা গঠন করেন ‘ইভোলিউশন৩৬০’। এর উদ্দেশ হলো- লিঙ্গ বৈষম্যহীন এবং এসডিজি-৫ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া।

সংগঠনটি তৈরির সূচনাকালে ১৫ সদস্যের একটি দল প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে ‘হি ফর শি’ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন

এবং সম্প্রসারণ করে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ছেলে শিশুদের ভালো ও মন্দের

পার্থক্য, মেয়ে শিশুদের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষা শিক্ষা দেয়া হয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পেইনটি অন্যান্য জেলায়ও ছড়িয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হচ্ছে- ছেলে শিশুদের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহনশীল আচরণ শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে লিঙ্গীয় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

এছাড়া ‘স্পিক ফর চেঞ্জ’ নামে দেশের সর্ববৃহৎ জাতীয় পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমেও এসডিজি-৫ লক্ষ্যমাত্রা

অর্জনে কাজ করছে উপমা আহমেদ ও তার স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়া নারীর সুরক্ষা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, ক্ষমতায়নে উৎসাহিত করার জন্য সময় ভেদে বিভিন্ন ইভেন্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে যাচ্ছেন এই শিক্ষাবিদ।

এ প্রসঙ্গে উপমা আহমেদ বলেন, ‘একজন সমাজকর্মী হিসেবে নিজেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে চাই। কেবল

আনুষ্ঠানিক অর্থে নয় বরং সত্যিকার অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নারীদের এবং ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের পক্ষে কাজ করতে আমরা আরও কিছু প্রকল্পের পরিকল্পনা করছি।’

এ বছর উপমা আহমেদ ছাড়াও বাংলাদেশের আরও কয়েকজন তরুণ-তরুণী পদকটিতে ভূষিত হয়েছেন। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত

তরুণ-তরুণীরা মূলত দেশের জন্য ইতিবাচক কাজ করায় এবং পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগিয়ে আসায় প্রবীণ বৃত্তিমান ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে তাদের লক্ষ্য, সামাজিক প্রভাব, উৎসাহিতকরণ, তরুণ নেতৃত্ব

প্রদান এবং সেবাদান পদ্ধতি- এই পাঁচটি ক্ষেত্র প্রদর্শন করার মাধ্যমে ১২টি বিচারিক প্যানেলের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত

ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হয়। যুক্তরাজ্য কিংবা এর বাইরের অঞ্চলের কোনো তরুণ ব্যক্তি এই অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয় তা

নির্ধারণ করার জন্য একজন তরুণ, একজন শিক্ষাবিদ এবং একজন ব্যবসায়িক অথবা সরকারের প্রতিনিধিকে নিযুক্ত

করা হয়। মনোনয়নপ্রাপ্ত তরুণেরা নির্বাচিত হন তাদের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের উপযুক্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *