উইঘুর ‘যোদ্ধাদের’ সরিয়ে নিয়েছে ‘তালেবান’

আফগানিস্তানের সঙ্গে চীন সীমান্ত থেকে উইঘুর যো’দ্ধাদের সরিয়ে নিয়েছে তালেবান। আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানের পৃথক সূত্রের বরাতে রেডিও লিবার্টি এই খবর প্রকাশ করেছে। সাবেক আফগান সেনা কর্মকর্তার বরাতে খবরে বলা হয়েছে,

বাদাখশান প্রদেশ থেকে উই’ঘুর যো’দ্ধাদের সরিয়ে নিয়েছে তালেবান। সরিয়ে তাদেরকে নানগরহার প্রদেশসহ আফগানিস্তানের পূর্বদিকের সীমান্তে নেওয়া হয়েছে। বাদাখশান প্রদেশের সঙ্গে চীনের ৭৬ কিলোমিটার

সীমান্ত রয়েছে। বেইজিং ও জাতিসংঘ আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টকে (উইঘুর যোদ্ধাদের অফিশিয়াল নাম) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে। জিনজিয়াং প্রদেশে অস্থিরতার জন্য চীন সরকার এই

বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দায়ী মনে করে। এই জিনজিয়াং প্রদেশে চীন মুসলমান ধর্মা’বলম্বী লাখ লাখ উইঘুর নাগরিককে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাধীন জি’নজিয়াংয়ের দাবিতে

উইঘুরদের অস্ত্রধারী একদল যো’দ্ধা লড়াই করছে। আফগানিস্তানে তাদের ঘাঁটি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে তাজিকিস্তানের

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা জা’নিয়েছেন, গত সপ্তাহেও তাজিক, উজবেক এবং অন্যান্য বিদেশি যো’দ্ধাদের সঙ্গে চী’নের উইঘুরের যো’দ্ধারা বাদা’খশান সীমান্তে ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে সীমান্ত সংলগ্ন

এলাকায় তাদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ১৯৯৬-২০০১ সালের শাসনামালে তা’লেবানের বি’রদ্ধে উইঘুর যো’দ্ধাদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে তালেবান বলছে, উইঘুর যোদ্ধারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেছে। আ’ফগানিস্তানের

শাসন ক্ষমতা ‘গ্রহণের পর থেকে তালেবান আরও বলছে, আ’ফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে কোনো অস্ত্রধারী গোষ্ঠী বিদেশের মাটিতে হামলার ছক কষতে পারবে না। আ’ফগানিস্তানের মাটিতে বসে আল-কায়েদা

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন-টাওয়ারে হা’মলা করেছিল। এ কারণে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও প’শ্চিমা সামরিক ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে হানা দিয়ে তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। দীর্ঘ ২০ বছর যু’দ্ধ চলার বিদেশি বাহিন ৩০ আগস্ট আফগানিস্তান ত্যাগ করে। গত ১৫ আগস্ট

তালেবান আ’ফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। এর দুই সপ্তাহ পর তারা সরকার গঠন করে। যুক্ত’রাষ্ট্র ও তাদের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে উৎসাহ না দেখালেও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা পরাশক্তি চীন তালেবানের সঙ্গে ঘ’নিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা

করে চলছে। ২০ বছরের যু’দ্ধবি’ধ্বস্ত আফগানিস্তানে তারা অবকাঠামো নির্মাণসহ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন,উইঘুর বি’দ্রোহীরা যাতে চীন সীমা’ন্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য তালেবানকে হাতে রাখতে আফগানিস্তানে ব্যাপক বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *