পশ্চিমা বিশ্বকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে পারে ‘তালেবান’

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা জোট ন্যাটো সেনা চলে যাবার ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট তা’লেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। এর দুই সপ্তাহ পর তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে। পশ্চিমা বিশ্ব বলছে, তারা তা’লেবানকে স্বী’কৃতি দিতে

তা’ড়াহুড়া করবে না। অর্থাৎ তা’লেবান সব স’ম্প্রদায়ের লোকদের নিয়ে সরকার গঠন করে কী না, নারী অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব দেয় কী না ; এসব দেখে তারা তালেবানকে স্বীকৃতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু

তালেবান পশ্চিমা বিশ্বের আহ্বানে পাত্তা দিচ্ছে না। তারা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছে। আফগান রাজনীতির বিশ্লেষক সৈয়দ আব্দুল্লাহ নিজামী বলেন, এ দফায় বিদেশিদের সাথে সম্পর্কে অনেক আগ্রহ দেখাচ্ছে তালেবান, কিন্তু বিদেশিদের কথাবার্তা

তারা শুনছে না। কখনই তারা শোনেনি। আপনি নারী শিক্ষা বলুন, সঙ্গীত বলুন আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষার তরিকা বলুন তারা তাদের পুরনো বিশ্বাস আদর্শ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। কথা না শোনার কারণে তালেবানকে দমন করতে পশ্চিমা বিশ্ব নিষেধাজ্ঞার কৌশল বেছে

নিতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তালেবানকে কো’ণঠাসা করার চেষ্টা হিতে-বিপরীত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক প্রকাশনায় গবেষক ভান্দা ফেলবাব ব্রাউন তার এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, আর্থিক চাপে এবং

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তালে’বানকে উৎখাত বা আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা খুবই কঠিন হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভেদকে কাজে লাগিয়ে এবং অনা’নুষ্ঠানিক অর্থনীতির ওপর ভর করে বিশ্বের অনেক দেশের সরকার পশ্চিমাদের

নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও বহুদিন ক্ষমতা রাখতে সক্ষম হয়েছে – যেমন মিয়ানমার, উত্তর কোরিয়া, ভেনিজুয়েলা। ভারত ও পাকিস্তান বৈরিতা এবং হালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে

বিরোধকে কেন্দ্র করে এশিয়ায় যে ভূরাজনৈতিক দলাদলি শুরু হয়েছে, তাতে তা’লেবানের পক্ষে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আ’ঙ্গুল দেখানো তেমন কঠিন কিছু নাও হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *