রাস্তার ধারে মিললো ফেলে রাখা নবজাতক

বাড়ির পাশে গ্রামের মেঠোপথে হঠাৎই থেমে থেমে ভেসে আসছে নবজাতক কান্নার আওয়াজ। ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত চারিদিকে শুননাশ নিরবতা। শব্দ শুনে কিছুটা ভয়নিয়ে ঘরথেকে বের হন লাভলু মিয়া, সাথে তার স্ত্রী বাসনা আক্তার। মুঠোফোনের মলিন আলোয় অবশেষে দেখা মিলল ফুটফুটে নবজাতকের (মেয়ে)। মাটিতে গড়াগড়ি করছিল

শিশুটি, গায়ে ছিল না কোন কাপড়। শরীরের রক্তের দাগ, তখনও পড়েনি শিশুটির নাভী। মুহূর্তেই কোলে তুলে নেন লাভলুর স্ত্রী বাসনা আক্তার। বাড়ি নিয়ে কাপড়ে জড়িয়ে মুখে দেন গাভীর দুধ। পরম মমতায় মাতৃস্নেহে বুকে জড়িয়ে কাটান সারারাত। রাত পোহাতেই এলাকাবাসী শিশুটির নামও রাখে বিলকিছ। রাতভর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে কানাঘোষা হলেও হদিস মেলেনি তার পিতা-মাতার। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পুটিয়াজানী গ্রামে।

পরে বিষয়টি স্থানীয় ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাহেলা ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মেম্বার নাছিমা আক্তার মল্লিকা প্রশাসনকে খবর দেন। রাত পারকরে মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ওয়াদিয়া শাবাব, সংশ্লিষ্ট থানার পরিদর্শক (ওসি) মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব, ওসি (তদন্ত)

মোহাব্বত খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, এসআই আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই মেয়ে নবজাতককে লাভলুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ঘিওর থানার ওসি মো: রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, গতকাল (সোমবার) রাত ১১ টার দিকে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামবাসী। আজ সকালে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা গিয়ে শিশুটিকে ঘিওর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এই শিশুর অভিভাবকদের

চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুটিকে সার্বক্ষণিক দেখামোনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছি বলে জানান ওসি রিয়াজ।

শিশুটির উদ্ধারকারী বাসনা আক্তার (৩৩) বলেন, মেয়ে শিশুটিকে পাবার পর থেকে সারা রাত আমার বুকে ছিল। আজ হাসপাতালে আনার পর থেকে আমার কাছেই রয়েছে। অনেক মায়া পরে গেছে। আমার কোন মেয়ে নেই। এই মেয়েটিকে আমার মেয়ে হিসেবে মানুষ করতে চাই।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ওয়াদিয়া শাবাব জানান, শিশুটিকে হাসপাতে ভর্তি করে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা ও সুরক্ষায় সমাজ সেবা কর্মকর্তা, হাসপাতালের চিকিৎসক ও পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠার পর এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *