পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় তালাক দেন স্বামী, ক্ষোভে বটি দিয়ে কোপান স্ত্রী

দুবাই প্রবাসী সোহেলের পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় তার মুখে তালাকের কথা শুনেই স্ত্রী শিউলি আক্তার রাগে তাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে একাই হত্যা করে। শিউলিকে গ্রেফতারের পর রোববার সকালে ফেনী র‍্যাব ক্যাম্পে কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ আল জাবের ইমরান প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

তিনি জানান, ফেনী শহরের দুবাই প্রবাসী সোহেলকে হত্যার পরপরই আসামি শিউলী ট্রেনে চট্টগ্রাম ফটিকছড়িতে যান। সারাদিন সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়ে ভোর সাড়ে

৩টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় চাচার বাসায় আত্মগোপন করে ছিল শিউলী। গোপন খবরে র‍্যাব তাকে রোববার সন্ধ্যায় সেখান থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় শিউলির দুই সন্তান রিহান ও জান্নাতকে মায়ের সঙ্গে নিয়ে আসা হয়।

পরে শিউলির দেখানো মতে তাদের শহরের সুফি ছদর উদ্দিন সড়কের বাসার পাশে ডোবা থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহার করা বঁটি উদ্ধার করা হয়। শিউলির ব্যবহার করা দুটি মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে তার পরকীয়ার কোনো প্রমাণ পায়নি র‍্যাব।

স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ আল জাবের ইমরান আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্বামী সোহেলের পরকীয়া নিয়ে শিউলির তুমুল ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোহেল শিউলিকে মৌখিকভাবে তালাক দেয়। এতে শিউলী চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়। সোহেল যখন বিছানায় বসে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত এ অবস্থায় শিউলী রান্নাঘর থেকে বঁটি এনে সোহেলের ঘাড়ে কোপ মারে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে আর কয়েকটি কোপ মারে। এ সময় তাদের সন্তানরা ঘুমে ছিল।

পরে বঁটি জানালা দিয়ে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। একপর্যায়ে শিউলী তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ির কেয়ারটেকারকে তার বাবা মারা যাওয়ার কথা বলেই রাতে পালিয়ে যায়। এদিকে শুক্রবার ফেনী শহরের সুফি ছদর উদ্দিন সড়কের সোহেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার মা নিরলা বেগম বাদী হয়ে সোহেলের স্ত্রী শিউলি আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *