কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

ক্রমেই জটিল হচ্ছে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি। দেশটিতে তালেবান ক্ষমতাগ্রহণের পরই আফগানদের মধ্যে দেশত্যাগের হিড়িক পড়েছে। চলছে কূটনীতিকসহ বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও। এই পরিস্থিতিতে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সাত দিনে আফগানসহ বিভিন্ন দেশের ১৭ হাজার মানুষকে কাবুল বিমানবন্দর হয়ে আফগানিস্তান থেকে বের করা হয়েছে। এদের মধ্যে আমেরিকান নাগরিক প্রায় আড়াই হাজার।

কাবুল বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগান শাখা হামলা চালাতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রোববার (২২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কাবুল বিমানবন্দরে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একটি নিরাপত্তা সতর্কতাও জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, আইএসের আফগানিস্তান শাখা এই হামলা চালাতে পারে। আর তাই আফগান ভূখণ্ডে অবস্থান করা মার্কিন নাগরিকদেরকে আপাতত কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছে দেশটি।

আইএসের হামলার ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কাবুলে হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো হুমকিও এখন পর্যন্ত দেয়নি গোষ্ঠীটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্ভাব্য ‘নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিমানবন্দরের প্রবেশপথের বাইরে থাকতে’ আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক করা হয়। তাদের উদ্দেশে বলা হয়, শুধু যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো প্রতিনিধির নিশ্চিত বার্তা পাওয়া ব্যক্তিরাই বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই নির্দেশনা দিয়েছে জার্মানিও।

কাবুলের জার্মান দূতাবাস আফগানিস্তানে থাকা দেশটির নাগরিকদের ই-মেইলের মাধ্যমে সতর্ক করে বলে, বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছেন তালেবান যোদ্ধারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, নিরাপদে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর বিকল্প পথের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

শনিবার পর্যন্ত সাত দিনে আফগানসহ বিভিন্ন দেশের ১৭ হাজার মানুষকে কাবুল বিমানবন্দর হয়ে আফগানিস্তান থেকে বের করা হয়েছে। এদের মধ্যে আমেরিকান নাগরিক প্রায় আড়াই হাজার।

বিমানবন্দর সুরক্ষিত রাখতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই অভিজাত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ছয় হাজার সেনা সেখানে মোতায়েন আছে। উপস্থিত আছে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের আরও সহস্রাধিক সেনা। তার পরও প্রচণ্ড ভিড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি পুরো এলাকায়।

হোয়াইট হাউসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের’ প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অবহিত করেছেন সহযোগীরা।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট। আইএসসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক জোটের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পরাজয়ের পর থেকেই আড়ালে আছে আইএসের আফগানিস্তান শাখা আইএস-কে বা আইসিস-কে (ইসলামিক স্টেট ইন দ্য খোরাসান)। তবে এর মাঝেই কাবুলসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বেশ কয়েকটি বড় বড় হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তালেবান গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ।

তাদের সঙ্গে যেকোনোভাবে বিমানে উঠতে মরিয়া হাজারো আফগান পরিবার। তালেবানের বন্দুক আর চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তারা।

কোনোভাবে ফ্লাইট ধরতে পারার আশায় প্রতিদিনই বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে ভিড় করছে অনেক নতুন মুখ। পাসপোর্ট, শিশুসন্তান আর পরনের পোশাক নিয়েই ঘর ছেড়ে বিমানবন্দরমুখী তারা।

নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে এক সপ্তাহ ধরে কেবল সামরিক ফ্লাইট ওঠানামা করছে বিমানবন্দরটিতে। কবে নাগাদ বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হবে, তা অস্পষ্ট।

এ অবস্থায় বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির কারণে দিন দুয়েক আগে মাত্র ২০০ মিটার দূরের একটি ভবন থেকেও ১৬৯ জন আমেরিকানকে বিমানবন্দরে নিতে ব্যবহার করতে হয়েছে তিনটি সামরিক হেলিকপ্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *