কুমিল্লা থেকে মুঠোফোনে পরীমণিকে গ্রে’প্তারের ত’থ্য দেয়া হয়!

মা’দক মা’মলায় গ্রে’ফতার নায়িকা পরীমনিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কা’রাগারে নেয়া হয়। কা’রাগারে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তাকে ১৪দিন রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, পরীমনিকে কা’রাগারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের রজনীগন্ধা ভবনে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নি’র্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি এখনো ডিভিশন পাননি তাই তাকে কোয়ারেন্টাইন শেষে সাধারণ ব’ন্দিদের স’ঙ্গে রাখা হবে।

বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে তাকে নিয়ে পু’লিশের প্রিজন ভ্যান কাশিমপুর কা’রাগারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কা’রাগারে পৌঁছায় পরীমনির প্রিজন ভ্যান। এ সময় উৎসুক জনতা কারাফটকে জ’ড়ো হন। তবে প্রিজন ভ্যানটি পু’লিশের ক’ড়া পা’হারায় কারা কমপ্লেক্সের ভেতরে চলে যায়।

এর আগে দুই দফা রি’মান্ড শে’ষে বনানী থা’নার মা’দকদ্রব্য নি’য়ন্ত্রণ আ’ইনের মা’মলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জা’মিন আবেদন নাকচ করে কা’রাগারে পাঠানোর নি’র্দেশ দিয়েছেন আ’দালত। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কা’রাগারে নেয়া হয়েছে আলোচিত নায়িকাকে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে পরীমনিকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানটি কাশিমপুর কা’রাগারে ঢোকে। এর আগে রাজধানীর বনানী থা’নায় মা’দকদ্রব্য নি’য়ন্ত্রণ আ’ইনে করা মা’মলায় পরীমনির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কা’রাগারে পাঠানোর আ’দেশ দেয় আ’দালত।

পরীমনির অন্যতম আ’ইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর এক আবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাকে ডিভিশন দেয়ার আ’দেশ দেয়া হয়। নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন ।

ডিভিশন দেয়ার আ’দেশে বলা হয়েছে, যেহেতু আসামি একজন চিত্রনায়িকা ও শিল্পী, সাধারণ হাজতির স’ঙ্গে বসবাস করা তার ক্ষ’তির কারণ হতে পারে। এ কারণে কারাবিধি মেনে কারা ক’র্তৃপক্ষকে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার আ’দেশ দেয়া হলো।

পরীর আ’ইনজীবী নীলাঞ্জনা তার আবেদনে বলেন, যেহেতু নায়িকা পরীমনি একজন স্বনামধন্য নায়িকা। ফোবর্স ম্যাগাজিনে তার নাম এসেছে। তার জন্য সাধারণ হাজতিদের স’ঙ্গে বসবাস করা অ’স্বস্তিকর ও তার মা’নসিক পী’ড়ন হতে পারে।

এমনকি কোনো দু’র্ঘটনার শি’কার হতে পারেন। সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তাকে কা’রাগারে ডিভিশন দেয়ার আবেদন করছি। আবেদনে তিনি বলেন, পরীমনির জীবনযাপন, পোশাক-পরিচ্ছদ ও অনেক বিষয় অন্যদের থেকে আলাদা। এ কারণে তাকে কা’রাগারে ডিভিশন দেয়া জরুরি।

দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রি’মান্ড শে’ষে শুক্রবার দুপুরের আগে পরীমনিকে আ’দালতে নেয়া হয়। বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। সোয়া ৩টার পর রায় আসে। এদিন পরীমনিকে আ’দালতে হাজির করে কা’রাগারে আ’টক রাখার আবেদন করেন মাম’লার ত’দন্ত সংস্থা সিআইডির কর্মক’র্তা।

অন্যদিকে পরীমনির পক্ষের আ’ইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী, মজিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন জা’মিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে আ’ইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আ’সামির সামাজিক মানমর্যা’দা রক্ষা এবং একজন শিল্পী হিসেবে মানসিক উৎপীড়ন থেকে র’ক্ষার মান’বিক তাগিদেই তাকে জা’মিনে মু’ক্ত করা আবশ্যক।

পরীমনির মু’ক্তির দা’বিতে সমাজের মু’ক্তচিন্তার প্রগতিশীলরা সোচ্চার হচ্ছেন। বিজ্ঞ আ’দালত নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকা খুললে প্রতিদিন দেখেন এসব সংবা’দ ছাপা হচ্ছে, টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। দেশের বিশিষ্টজনেরা তার মু’ক্তি দা’বি করছেন।

সে যদি এই মা’মলায় অ’পরাধী হয়, তাহলে তাকে মা’মলার বি’চারের মধ্য দিয়ে শাস্তি দেয়া যাবে। কিন্তু আপাতত যেকোনো শর্তে তার জা’মিন চাই বিজ্ঞ আ’দালতে।’ আ’ইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, ‘তার বি’রুদ্ধে ২০ বোতল ম’দ পাওয়া গেছে। মা’মলার বিষয়ে মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা বলেছেন যে, ত’দন্ত করে সা’ক্ষী পাওয়া যাচ্ছে। এটা একটি অনিশ্চিত বিষয়।’

তিনি পরীমনির হয়ে বলেন, ‘আমার (পরীমনি) পাসপোর্ট রেখে জা’মিন দেয়া হোক। কারণ আইও বলেছেন, তার আবেদনে আ’সামি পা’লিয়ে যেতে পারে। আমার পাসপোর্ট জমা রাখলে আমি তো বিদেশে যেতে পারব না।

বিশ্বময় অতিমারি স’মস্যা চলছে। এর মধ্যে ত’দন্ত কর্মক’র্তার এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার যেভাবে বলবে সেভাবে তদ’ন্ত করার কথা, সেটা হলো আর্মস গ্যাংয়ের বি’রুদ্ধে। র‍্যাব আ’ইনগতভাবে অ’পারেশন করে নাই। তারা আ’সামিকে গ্রে’প্তার করে উত্তরায় তাদের অফিসে নিয়ে গেছে। তাকে থা’নায় হস্তান্তর না করে নিজেদের কাছে কয়েক ঘণ্টা রাখার পর তাকে থা’নায় হস্তান্তর করা হয়।’

পরীমনির আ’ইনজীবী তার হয়ে আরো বলেন, ‘আমি কোনো খু-নের আ’সামি নই, আমাকে কেন এত ঘণ্টা আ’টক রাখা হলো আপনি নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করবেন; অবজারভেশন করবেন, জা’মিন দেবেন।’

এদিকে পরী গ্রে’প্তার হবেন এমন ত’থ্য চার মাস আগেই জানতে পেরেছিলেন নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। দেশের প্রথমসারির একটি গ’ণমাধ্যমে এমন খ’বর প্র’কাশ করা হয়েছে।

একটি জনপ্রিয় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, পরীকে গ্রে’প্তারের বিষয়ে চার মাস আগেই অ’জ্ঞাত একটি ফোন নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে খুদে বার্তাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ত’থ্য নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীরে ফোনে পাঠানো হয়।

খুদে বার্তায় বলা হয়, ‘পরীমণির সামনে অনেক বড় বিপদ। তাকে গ্রে’প্তারের বিষয়ে মিটিং হয়েছে।’ অচেনা নম্বর থেকে এমন ম্যাসেজ পেয়ে বিচলিত চয়নিকা সেটি পরীর ফোনে ফরওয়ার্ড করেন। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর মোবাইল নম্বরটি ব’ন্ধ পাওয়া যায়।

চয়নিকার ম্যাসেজের পর নড়েচড়ে বসেন তিনি। আগাম ত’থ্য জানতে পেরে গ্রে’প্তার এড়াতে দেন দরবার শুরু করেন নায়িকা। পরিচিতজনদের স’ঙ্গেও যোগাযোগে লাগাম টানেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ব’ন্ধ করে নতুন নম্বর চালু করেন। কিন্তু তাতেও শেষ র’ক্ষা হলো না পরীর।

পত্রিকাটি বলছে, পরীমণিকে গ্রে’প্তারের নেপথ্যে রয়েছে তার উ’শৃঙ্খল জীবন। সিনেমার শুটিংয়ের আ’ড়ালে প্রভাবশালীদের স’ঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বেশি পছন্দ করতেন পরীমণি। রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি শেষে ম’দ্যপ অবস্থায় বের হতেন তিনি। এই নায়িকা নিয়মিত ধূমপান করেন। তার বাসায় বিদেশি সিগারেট ও ম’দের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, দেশের সব অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের স’ঙ্গে পরীমণির বেশ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের রেফারেন্সে তিনি বিভিন্ন ক্লাবে যাতায়াত করতেন। তারকা হোটেলের বারেও তার যাতায়াতের রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও তার ঘনিষ্ঠদের তালিকায় আছেন অনেক প্রভাবশালীর নাম। যাদের কেউ কেউ পরীকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশেও ঘুরতে যান।

এদিকে পরীর বিষয়ে সাবধান করে খুদে বার্তা পাঠানো মোবাইল নম্বরটি ঘিরে ত’দন্ত চলছে। গো’য়েন্দা পু’লিশের জি’জ্ঞাসাবা’দে তাদেরকে মোবাইল নম্বর এবং এসএমএসগুলো দিয়েছেন পরী।

জানা যায়, সেই নম্বরটি রবি কোম্পানির। জনৈক হালিমা আক্তারের নামে নিবন্ধিত। জাতীয় পরিচয়পত্রে হালিমার মায়ের নাম ফাতেমা, বাবা হাবিজ মিয়া এবং স্বামীর নাম আক্তার হোসেন। পেশা গৃহিণী। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজে’লার পশ্চিম পিপইয়াকান্দি গ্রামে তার বাড়ি।

গোয়েন্দাদের ধারণা, নম্বরটি হয়তো ভু’য়া এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত। অথবা ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট কারও বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। এসএমএসদাতা নিজেকে স’ন্দেহের বাইরে রাখতে গৃহকর্মীর নম্বর ব্যবহার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *