তালেবানের কাছে হার মানছে সরকার

আফগানিস্তানে সহিংসতা বন্ধে তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফগান সরকার। কাতারের মাধ্যমে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আফগান সরকারের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই মুহূর্তে পুরো আফগানিস্তান দখলে বি’দ্যুৎগতিতে এগোচ্ছে তালেবান।

একের পর এক শহর দখল করছে। সর্বশেষ গজনি প্রদেশের রাজধানী গজনিসহ ১০টি প্রাদেশিক রাজধানী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কোণঠাসা হয়ে পড়েছে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকার। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব এলো। তবে ঘানি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তালেবান আফগান সরকারের সঙ্গে কোনো আ’লোচনায় বসবে না বলে জানিয়েছেন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এদিকে আফগানিস্তানে শান্তি প্র’তিষ্ঠায় সহযোগিতার লক্ষ্যে তালেবানের প্রধান নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। জার্মানি বলেছে, তালেবান ক্ষ’মতায় এলে আফগানিস্তানকে সব ধরনের আর্থিক সহায়তা ব’ন্ধ করে দেবে তারা। দীর্ঘ ২০

বছরের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ পর আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩১ আগস্টেই সব সেনা সরিয়ে নেবে দেশটি। ইতোমধ্যে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে ন্যাটো দেশগুলো। তবে ন্যাটোর অংশ হিসাবে আফগানিস্তানে তুরস্কের সেনা রয়েছে। আগস্টে মার্কিন সেনা প্র’ত্যাহারের পর তুর্কি সেনাদের কাবুল বিমানবন্দর র’ক্ষণাবেক্ষণ করার কথা রয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার ঘোষণার পরপরই আফগান বাহিনীর বিরু’দ্ধে হা’মলা জোরদার করে তালেবান। এরপর গত দুমাসের মধ্যে দেশের প্রায় অর্ধেকের বেশি জেলার দখল নিয়ে নিয়েছে যোদ্ধারা। আলজাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার গজনি প্রদেশের রাজধানী দখল করে সশ’স্ত্র গো’ষ্ঠীটি। শহরটি আফগান রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরে।

কাবুল ও কান্দাহার মহাসড়কের মাঝে অবস্থিত শহরটির পতন নিশ্চিত করেছেন আফগান সরকারের স্ব:রাষ্ট্রমন্ত্রী। তীব্র লড়া’ই চলছে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী ও আফগানিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম শহর লস্করগাহেও। ইতোমধ্যে এখানকার আঞ্চলিক পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। তীব্র আক্র’মণের মুখে তালেবানের কাছে আ’ত্মসমর্পণ করেছেন লস্করগাহের

একদল পুলিশ কর্মকর্তা। বাকিরা আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা গভর্নর অফিসে। লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর অনেক সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কান্দাহার কারাগারে তাণ্ডব চালিয়েছে তালেবান। স্থা’নীয় সূত্রের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের একটি দল কান্দাহার কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে

কয়েকশ’ বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। কারাগারটিতে এর আগেও হানা দিয়েছিল তালেবান। তখনও অসংখ্য বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটেছিল। উ’ত্তরাঞ্চলের বলখ প্রদেশের রাজধানী ও আফ’গানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর মাজার-ই-শরিফ দখলেও অ’ভিযান চালাচ্ছে তালেবান যোদ্ধারা। চলতি স’প্তাহেই এর নিকটবর্তী প্রাদেশিক রাজধানী

শেবেরগানের পতন হয়েছে। এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর মাজার-ই-শরিফের পতন হলে আফগান সরকারের পতন আরও ত্ব’রান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য শহরটির র’ক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে সরকার। তালেবানের মোকাবিলায় আফগান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সৈন্য-সামন্ত নিয়ে মাঠে নেমেছেন যুদ্ধবাজ নেতা ও সাবেক প্রে’সিডেন্ট আবদুল রশিদ দোস্তাম।

এদিকে আফগানিস্তানে যু’দ্ধবিরতি বাস্তবায়নে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র’সহ বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধিরা দুপক্ষকে আলোচনায় বসানোর শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আফগান শান্তি আলোচনাবিষয়ক মার্কিন দূত জালমাই খলিলজাদে এখন কাতারের দোহায় অবস্থান করছেন। শান্তি আলোচনায় মধ্য’স্থতার জন্য পাকিস্তান যাতে তালেবানের ওপর প্র’ভাব খাটায় সেজন্য

ইসলামাবাদের ওপর চাপ প্রয়ো’গ করছে ওয়াশিংটন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, আশরাফ ঘানি প্রেসিডেন্ট থাকা অ’বস্থায় আফগান সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না তালেবান। তিনি আরও

বলেন, ‘২০ বছর ধরে সা’মরিক স:মাধান খোঁজার পর তা না পেয়ে তাদের ফেলে যাওয়া জ’ঞ্জালের নিষ্পত্তি
করতেই এখন পাকিস্তানকে খোঁজা হচ্ছে।’ তালেবানরা আফগান প্রে’সিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত পুতুল সরকার মনে করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *