চাচার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া, লাশ হলেন ভাতিজা

ফরিদপুরের সালথায় সোহেল খান নামে এক যুবককে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি মহলের বিশেষ তৎপরতার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সালথা উপজেলার শৈলডুবি গ্রামে।

সোমবার দুপুরে সোহেলের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত সোহেল খান সালথার শৈলডুবি গ্রামের আইয়ুব খানের চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সবার বড় সন্তান। ২০১৭ সালে সালমা বেগমের সঙ্গে বিয়ের পর তাদের সংসারে এখন সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতো সোহেল।

সোহেলের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, রোববার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তিনি ও তার স্বামী সোহেল একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি দেখেন বিছানায় পাশে স্বামী নেই। এরপর আলো জ্বালিয়ে দেখেন ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো লাশ ঝুলছে। সালমা দাবি করেন, এরপর তিনি বটি দিয়ে ওড়না কেটে লাশটি নামান এবং বাড়ির অন্যদের খবর দেন।

তবে সোহেলের মা কোহিনুর বেগম অভিযোগ করেন তার ছেলেকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সোহেলের চাচা সেকেন্দারের সঙ্গে তার ছেলের বউ সালমার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারে অনেক ঝামেলাও হয়েছে। ১০ বছর আগে স্বামী আইয়ুব খানের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে জানিয়ে কোহিনুর বেগম বলেন, চাচা শ্বশুরের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার জের ধরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

সোহেলের বোন বিথী আক্তার বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে চাচা সেকেন্দারের সঙ্গে আমার ভাবির অবৈধ সম্পর্ক চলছে। রোববার রাত ৮টার দিকেও আমি চাচা ও ভাবিকে একসঙ্গে অনৈতিক অবস্থায় দেখে ফেলি। এরপর ফুফুকে বিষয়টি আমি জানাইও।

এ ব্যাপারে সেকেন্দার খাঁর বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রীও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সোহেলের বাবা আইয়ুব খান বলেন, আমাদের সমস্যা আমরা থানায় গিয়ে মিটিয়ে এসেছি। আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই। ছেলে সোহেল ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করিনি থানায়।

এ ব্যাপারে সালথা থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই আমি ঘটনাস্থলে একজন অফিসারকে পাঠিয়েছিলাম ঘটনাটি তদন্তে। পরে আমি নিজেও সেখানে গিয়ে আত্মহত্য্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *