তালেবানদের পতাকা ধারণ করে সমর্থন জানাচ্ছে পাকিস্তান

জাস্ট আর্থ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আফগান বিদ্রোহীদের কার্যক্রম বাড়তে থাকায় পাকিস্তানিরা তা’লেবানদের পতাকা ধারণ করে এবং ইসলামি চ’রমপন্থী স্লোগান দিয়ে তাদের স’মর্থন জানাচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের কোয়েটা শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া

একটি ভাইরাল ভিডিওতে তা ফুটে উঠেছে। কোয়েটা শহরের বাসিন্দা এবং বেলু’চিস্তানের পিশিন জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘তালেবানদের কার্যক্রম সেখানে বেড়ে গেছে।’ এছাড়াও পাকিস্তানের একজন আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানে তালেবানরা স্বাধীনভাবে

ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে, আইনজীবী মহসিন দাওয়ার এ ব্যাপারে বলেছেন, কোয়েটাসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে তা’লেবানরা অবাধে বিচরণ করছে। রাষ্ট্রীয় সমর্থন ছাড়া এটা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। তালেবান ঠেকাতে আফগান বাহিনীর রণকৌশল বদল তালেবানের কাছে কয়েকটি বড় পরাজয়ের পর কৌশল পাল্টাচ্ছে আফগান বাহিনী। আফগান ও মার্কিন ক’র্মকর্তারা জানিয়েছেন,

কাবুলের মতো কিছু গু’রুত্বপূর্ণ শহর, সীমান্ত চেকপোস্ট এবং অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সেনা মোতায়েন করার কথা ভাবছে সরকার। এমন কৌশলের ফলে অন্য অনেক অঞ্চল তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিভিন্ন প্রদেশের রাজধানীকে রক্ষার মাধ্যমে দেশ’টিতে বিভাজন এড়াতে

এর বিকল্প নেই। এর আগে কৌ’শল পাল্টানো বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেলেও এত বিস্তারিত জানা যায়না। ৩১ আগস্টের আগে দেশটি থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর আগেই এই নতুন কৌশল কার্যকর করতে চায় আফগান সরকার। বার্তাসংস্থা র’য়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে এসব তথ্য। তালেবান এরই মধ্যে

আফগানিস্তানের অনেক অ’ঞ্চলের দখল নিয়েছে। পেন্টাগন বুধবার জানিয়েছে, দেশটির অর্ধেকের বেশি জেলা এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। অর্ধেকেরও বেশি প্রাদেশিক রাজধানীকে কাবুল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক চাপ প্রয়োগও করছে তালেবান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গো’য়েন্দাদের ধারণা ছয় মাসের মধ্যে

আফগান সর’কারের পতনও ঘটতে পারে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ‘আফগান কর্মকর্তা বার্তা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেনাসদস্যদের অল্প কিছু জায়গায় জড়ো করলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং অবকাঠামো (যেমন ভারতের সহা’য়তায় নির্মিত একটি বাঁধ) এবং

মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু বিশেষ বিশেষ জায়গায় সেনা জড়ো করার মানে হচ্ছে অন্য এলাকাগুলোকে অর’ক্ষিত রেখে দেয়া এবং সেসব এলাকার বাসিন্দা বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে তালেবানের হাতে ছেড়ে দেয়া। আফগান কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত মানুষের সামনে কীভাবে তুলে ধরবেন?

স্বাভাবিকভাবেই মা’নুষ খুব ভীত। একের পর এক অঞ্চলের দখল নিচ্ছে তালেবান।” মার্কিন জেনারেল মার্ক মাইলি বলেছেন, তালেবান ‘কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে’। নতুন কৌশলে জে’লার কেন্দ্র সমর্পণ করে কাবুলের মতো বেশি জনসংখ্যার কেন্দ্রগুলোতে বেশি নজর দেয়ার কতা ভাবা হচ্ছে। বুধবার এক সংবাদ

সম্মেলনে তিনি জা’নিয়েছেন, ‘‘তালেবানের পুরোপুরি ক্ষমতা দখল বা অন্য যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।” মার্কিন মেরিন জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডারের দায়িত্ব পালনের পা’শাপাশি আফগানিস্তানে

মার্কিন সেনাবেহিনী এবং আ’ফগান বাহিনীর সহায়তার বিষয়টি দেখভাল করেন। তিনি বলেন, ‘‘সবকিছু রক্ষা করা সম্ভব নয়৷ সব জায়গাকে রক্ষা করতে গেলে কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ফলে আমার মনে হয় আফগানরা এ বিষয়টি বুঝতে পেরেই সেনা জড়ো করছে।” কৌশলগতভাবে অগুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ

বিভিন্ন এলাকায় চে’কপয়েন্টে সেনা মোতায়েন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সেদিকে ইঙ্গিত করে ম্যা’কেঞ্জি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় এখন তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে যে সেনা সদস্যদের একত্রিত করা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

এলাকা স’র্বোচ্চ শক্তি দিয়ে রক্ষা করা দরকার।”নতুন রণকৌশল বিষয়ে জানতে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যো’গাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে জনিয়েছে রয়টার্স। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *