আমার কাছে পুরুষের বয়স, ধর্ম কোনও বিষয় না

টালিউডের বহুল সমালোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। যিনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথাবলার চাইতে সোজা কথা বলতে ভালোবাসেন। তাইতো তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে ঠোঁট কাটা বলে পরিচিত। সবার সামনে বারবার ধরা পড়েছে তার সাহসী রূপ। এবার নতুন করে মুখ খুলে সমালোচনায় এসেছেন তিনি।শ্রীলেখার দাবি, ৪০ পেরিয়ে গেলেও তিনি আগের

মতোই রোমান্টিক। তবে তিনি হতাশ, এক পুরুষের মধ্যে ভালোবাসার সব গুণ আর খুঁজে পাচ্ছেন না! তার ভাষ্য,কারো চুমু খাওয়ার ভঙ্গি ভালো লাগে। কারো রোমান্টিক হাসি। কেউ হয়তো খুবই বুদ্ধিদীপ্ত। ফলে, এক এক করে ভালোবাসার পুরুষের সংখ্যা বাড়ছেই। এটা ভালো লাগছে না।তার মতে, একমাত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে

পুরুষের যাবতীয় গুণ খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, সৌমিত্র কাকুর পর এমন একজনকেও দেখলাম না যার সঙ্গে উদ্দাম প্রেম সম্ভব।শ্রীলেখা আরো বলেন, আমার কাছে পুরুষের বয়স, ধর্ম কোনও বিষয় না। এজ নো বার, কাস্ট নো বার… সে”ক্স বারবার!অভিনেত্রীর প্রশ্ন, এই প্রজন্মে তেমন জোরালো প্রেমিক কই? যিনি এক দেখাতেই ভাসিয়ে নিয়ে যাবেন শ্রীলেখাকে?

গল্পটা দুই মিনিট সময় ণিয়ে পড়ুন প্লিজ। কেউ কাউকে কখনো দেখেনি, তবুও ২০ বছরে ভালোবাসা কমেনি এ২০ বছরের পরিচয়ে বন্ধুত্ব, প্রে’ম ও বিয়ে—সবই হয়েছে; তবে ভালোবাসা কমেনি একটু। যারা বলেন, ভালোবাসা অন্ধ; তারা রফিকুল ইস’লাম ও নাসরিন আকতারের গল্পটা উদাহ’রণ হিসেবে নিতে পারেন। এই দম্পত্তি দেখিয়ে দিয়েছেন, ভালোবাসতে জানলে চোখে দেখতে হয় না।

বিয়ের আগে রফিকুল ও নাসরিনের পরিচয় ১৮ বছরের পরিচয় ছিল। তখন তারা দু’জনই প্রাই’মা’রি স্কুলে পড়তেন। তারপর হাইস্কুল এবং কলেজে পড়েছেন, এই সময়কালে নাসরিন রফিকুলের প্রে’মের প্রস্তাব ৯ বার প্রত্যাখ্যান করেন।

এর নেপথ্য গল্প জানালেন রফিকুল। তিনি বলেন, এখনকার যুগে সবাই চেহারা দেখে প্রে’মে পড়ে। মানুষের ভেতরকার মনের প্রে’মে পড়ে না কেউ। অথচ আম’রা কেউ কখনো কাউকে দেখিনি। আমাদের কাছে কারো উচ্চতা গায়ের রং চেহারা কিছুই আসে যায় না। আম’রা জানি না কে দেখতে কেমন।

নাসরিন বলেন, আমি জানি না রফিক দেখতে কেমন। আমাকে রফিক বারবার প্রপোজ দেয়ার পরে রিজেক্ট করতে করতে একটা সময় রফিককে অনুভব করতে পারি। আমি আর রফিক খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। আমি কখনো কল্পনাও করিনি বন্ধুত্বের বাইরে আমাদের মধ্যে অন্য কোনো স’ম্পর্ক হবে। কিন্তু রফিকে পাগলাটে ভালোবাসায় আমিও রফিকের প্রে’মে পড়ে যাই। আম’রা প্রে’মের স’ম্পর্কে জড়াই।

রফিকুলের বয়স যখন এক বছর, তখন টাইফয়েডে ভুল চিকিৎসার জন্য তার দু’চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। আর নাসরিন জন্ম থেকেই অন্ধ। কিন্তু তাদের ভালোবাসায় কোনো কমতি নেই। বিয়ের দু’বছর হলো, সংসারও চলছে ঠিকঠাক মতো। আর ভালোবাসা? বরং বেড়েছে।

এ হচ্ছে রফিক আর নাসরিনের ভালোবাসার গল্প। তারা দুজনই শিক্ষিত। নাসরিনের বয়স ১৯ আর রফিকের বয়স ২৩। রফিক বলেন, আমি এখন ছোটখাটো চাকরি করি। আমি নাসরিনকে নিয়ে ভালোই আছি। নাসরিন অসাধারণ একটি মে’য়ে। সে সব রান্না করতে পারে। অনেক বুদ্ধীমতী একটি মে’য়ে। আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান নাসরিনকে পেয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *