আফগানিস্তান নিয়ে কেন ভয় পাচ্ছে ভারত!

২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচে মুষিক প্রসব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবান আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে চারটি বিষয় ছিল, যার মধ্যে রয়েছে, সহিংসতা হ্রাস করা, বিদেশী সেনা প্রত্যাহার করা, আন্তঃআফগান আলোচনা শুরু করা এবং গ্যারান্টি দেয়া যে আফগানিস্তান আবারো উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে পরিণত হবে না।

এ চুক্তিটি দুই দশকের যুদ্ধের সমাপ্তির প্রথম পদক্ষেপ যাতে দুই লক্ষের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু তা থেকে কী অর্জন হয়েছে তা কোনো হিসাবে মিলছে না।

যদিও বেশিরভাগ আফগান শান্তিপ্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে, তবু আফগানিস্তানের আলোচনার সময় অনেক বিষয় কার্যকর করা বাকি রয়েছে, যেমন ক্ষমতা ভাগাভাগি, নিরস্ত্রীকরণ এবং তালেবান যোদ্ধাদের সমাজ পুনর্নির্মাণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত নির্ধারণ এবং সংবিধান প্রণয়ন।

শঙ্কিত দিল্লি! অন্যরা কী ভাবছে?
ভারত বরাবরই বর্তমান আফগান সরকারের শক্তিশালী সমর্থক এবং ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে অবকাঠামোগত বিকাশ ও ব্যবসায় গড়ে তুলতে ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে পাকিস্তানের প্রভাব কমানো এবং আফগানিস্তানকে ভারতবিরোধীদের ব্যবহারে বাধা দিয়ে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কাজে লাগানো। তালেবানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে ভারত সরকার সমর্থন দেয়নি যদিও একবারে শেষ মুহূর্তে তালেবানের সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি করতে ইরান রাশিয়া ও কাতারে তিন দফা বৈঠক করেছে ভারতীয় কর্মকর্তারা। তালেবান বিজয়ে আফগানিস্তানের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাাশাপাশি কাশ্মিরে এর প্রভাব নিয়েও শঙ্কিত ভারত।

আফগানিস্তানের প্রতিবেশিদের মধ্যে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরান দীর্ঘদিন ধরে তালিবান নামে একটি সুন্নি দলকে শত্রু হিসাবে দেখে আসছিল। ২০০১ সালে ইরান তালেবানদের উৎখাত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে এবং পরবর্তী আফগান সরকারকে সমর্থন করেছিল। পরে ইরানি নেতারা স্বীকার করেছেন যে তালেবান আফগানিস্তানে কিছুটা ক্ষমতা বজায় রাখতে থাকবে, তাই তারা সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করেছে। সবশেশে ইরান আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে একটি সমঝোতার বৈঠকের আয়োজন করে একটি সক্রিয় ভূমিকা নিতে চেষ্টা করেছে।

রাশিয়া আশা করছে, বর্তমান সরকারের পতনের পরে আফগানিস্তানের সাথে মস্কোর সম্পর্ক পুনরায় জাগিয়ে তোলা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অঞ্চলটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো উপস্থিতি মোকাবেলায় রাশিয়া শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে এবং আফগানিস্তানে তার প্রভাব বাড়াতে চায়। এটি গত এক বছরে তালেবান প্রতিনিধিদের এবং আফগান প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠকের আয়োজন করে।

দৃষ্টি চীন-তালেবান সম্পর্কের দিকে
আফগানিস্তানে বেইজিংয়ের আগ্রহগুলো প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক, কারণ এটি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সাথে একীভূত হওয়ার আশাবাদী। চীন দেশটির বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগের উৎস এবং এটি আফগানিস্তানের বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের সুবিধা নিতে আগ্রহী। ২০১৯ এর শেষদিকে, আফগানিস্তান এবং তালেবান কর্মকর্তারা বেইজিংয়ে একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং চীনা নেতারা মার্কিন-তালেবান চুক্তিকে সমর্থন করেন।

তালেবান মুখপাত্র সুহেল শাহীন বলেছেন, চীন আফগানিস্তানের ‘বন্ধু’ এবং পুনর্নির্মাণ কাজে বিনিয়োগের বিষয়ে বেইজিংয়ের সাথে কথা বলবে বলে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘যারা আফগানিস্তানকে অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে [হামলা চালানোর] সাইট হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, আমরা প্রতিশ্রুতি রেখেছি যে আমরা তাদের অনুমতি দেব না, এটি চীনসহ যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যক্তি বা সত্তা হোক না কেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *