ইউরোর সেমিফাইনাল-ফাইনাল নিয়ে মহা শঙ্কা

করোনা ভাইরাসের আগের কয়েকটি ধরনের চেয়ে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট প্রায় দ্বিগুণ সংক্রামক৷ অনেকেই বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টের কারণেই ইংল্যান্ডে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ওয়েম্বলির ম্যাচ নিয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা জানিয়েছে ইউরোপিয়ান কমিশন।

এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের এ মতামত তুলে ধরেছেন কমিশনের সহ-সভাপতি মার্গারিটিস সিনাস। বৃটিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

করোনার কারণে এক বছর পিছিয়ে ২০২১ এ এসে শুরু হলো ইউরো ২০২০। নানা নিয়ম, বায়োবাবল, স্বাস্থ্যবিধির ঘেরাটোপে বন্দী ফুটবলে প্রাণ ফিরে পেল আন্তর্জাতিক ফুটবল। দেশে দেশে অবস্থা বুঝে দেয়া হলো সমর্থকদের মাঠে এসে খেলা দেখার অনুমতিও।

কিন্তু, করোনার চোখ রাঙানো থামেনি একটুও। এই ইউরোতেই আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ফুটবলার। তবে, সব কিছুর পরও থামেনি খেলা, বরং দ্বিগুণ উৎসাহে চলছে আসর। সময়ে সময়ে বেড়েছে স্টেডিয়ামের দর্শকদের উপস্থিতিও।

এই যেমন ধরুন, ওয়েম্বলি। গ্রুপ পর্বে এখানে অনুমিত পেয়েছিল ২২ হাজার দর্শক। কিন্তু, নক আউট আসতেই যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজারে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই সেমি আর ফাইনাল ম্যাচে নাকি অনুমতি দেয়া হবে ৬০ হাজার জনকে।

আর এ ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপীয় কমিশন। ইংল্যান্ডে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকা ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। পাশাপাশি, এ অবস্থায় ওয়েম্বলির ম্যাচ আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।

ইইউ সহ-সভাপতি মার্গারিটিস সিনাস বলেন, উয়েফার উচিত ম্যাচগুলো নিয়ে আলোচনায় বসা। ওয়েম্বলিতে এ মুহূর্তে এত জনসমাগম হলে তা করোনার অবস্থাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রতি মুহূর্তে তার আচরণ বদলাচ্ছে। ইংল্যান্ডের অবস্থাও খুব একটা ভালো না।

শুধু ইউরোপিয়ান কমিশন নয়, করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় ফাইনাল লন্ডন থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাগি। আর এখনই এতোটা কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে না হেঁটে, ম্যাচগুলো নিয়ে উয়েফাকে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। তবে, ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সরাসরি ব্রিটিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান কমিশনের।

মার্গারিটিস সিনাস আরও বলেন, উয়েফা এখানে একক সিদ্ধান্ত নেয়ার অবস্থায় নেই। ব্রিটিশ প্রশাসনকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে বুঝতে হবে যে কোন কিছুই মানুষের জীবনের চেয়ে বড় নয়। কোভিড প্রটোকল প্রয়োজনে আরও কঠোর করতে হবে।

এদিকে, ইতোমধ্যে ম্যাচগুলো আয়োজনে নিজেদের ইচ্ছে প্রকাশ করেছে পুসকান অ্যারেনা কর্তৃপক্ষ। হাঙেরির কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় কোন কোয়ারেন্টিনও থাকবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে তারা।

করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে দিশেহারা সারাবিশ্ব। এর মধ্যে করোনার নতুন ডেল্টা ভেরিয়েন্ট (ভারতীয় ভেরিয়েন্ট) বাড়িতে বা অভ্যন্তরীণ পরিবেশে ৬০ শতাংশ বেশি সংক্রামক বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *