প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকালাপের সময় আটক এক শিক্ষক

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের বিশই সাওরাইল গ্রামে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর বাড়ীতে গিয়ে অসামাজিক কার্যকালাপের সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছেন পাংশা উপজেলার দড়ি বাংলাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুহিন মোল্লা। শিক্ষক তুহিন মোল্লা গাংধাইর গ্রামের অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সামসু মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় তুহিন মোল্লাকে স্থানীয়রা কালুখালী থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। পরে উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, শিক্ষক তুহিন মোল্লার ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকার পরও পার্শবর্তী এলাকার মনিরুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়াকে নানা ভাবে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাদেঁ ফেলে তার সাথে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। এরপরে তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়েও করে। তবে বিয়ে করেও নিজ বাড়িতে সুমাইয়াকে উঠতে পারেনি ওই শিক্ষক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে আদালতে সুমাইয়াকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শিক্ষক তুহিন। পরবর্তীতে বিয়ের ১৭ দিনের মাথায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন এই শিক্ষক। সে সময় স্থানীয়রা গ্রাম্য শালিশে ওই লম্পট শিক্ষক তুহিন মোল্লাকে ৪ লাখ টাকা জড়িমানা করে। এ ঘটনার কিছুদিন পরেই ঐ শিক্ষক পূনরায় তালাকাপ্রাপ্ত স্ত্রী সুমাইয়াকে বিভিন্ন প্রকার লোভ-লালসা দেখিয়ে তার সাথে আবারও সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীর নামের একজনের বাসায় ২-৩ দিন অবস্থান করে। সেখান থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতেও তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে অবস্থান করতে থাকে।

সুমাইয়ার পরিবার বিষয়টি জানার পরে শিক্ষক তুহিন মোল্লাকে সুমাইয়র সাথে পুনরায় যোগাযোগ এবং তাদের বাড়ীতে না আসার জন্য নিষেধ করে দেয়। তবুও শিক্ষক তুহিন মোল্লাকে আটকানো যায়নি। গত ৬ জুন বিকেলে শিক্ষক তুহিন মোল্লা ওই তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে ফের অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে চাইলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। পরে কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান নেতৃত্বে ওইদিন সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলামের বাড়ী থেকে শিক্ষক তুহিন মোল্লাকে আটক করে পুলিশ। সেই সাথে তুহিন মোল্লার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সুমাইয়াকেও কালুখালী থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এ ব্যাপারে সুমাইয়ার চাচা ইউপি সদস্য মোঃ সিরাজুল জানান, দুই দিনের মধ্যে শিক্ষক তুহিন সুমাইয়াকে পূনরায় বিয়ে করবে এই আশ্বাসে থানা হতে ছাড় পেয়েছে। কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান জানান, উভয় পক্ষের অভিভাবক বসে সমঝোতার কথা বলে থানা হতে দুজনকেই বাড়ীতে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে ওই শিক্ষক তুহিন মোল্লা ও তার পিতা সামসু মোল্লার সাথে কথা বলার চেষ্ঠা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয় যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *