পরপুরুষের কাছে স্ত্রীকে রেখে স্বামী বলেন ‘রুমানা ভাইকে একটু খুশি করে দাও’

স্বামী রিপনের সঙ্গী বন্ধুটি বারবার রুমানার দিকে তাকাচ্ছিলেন। চায়ের কাপটা হাতে নিতে নিতে বাম হাত দিয়ে রুমানার হাত ধ’রে টেনে পাশে বসানোর চে’ষ্টা করেন। রিপনের সামনেই তার স্ত্রীকে এভাবে টেনে পাশে বসানোর চে’ষ্টা করলেও রিপনের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

বরং রুমানাকে হতভম্ব করে দিয়ে রিপন বলেন, ‘রুমানা, তুমি ভাইকে একটু সময় দাও। আমি একটু বাইরে থেকে আসি।’ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকান রুমানা। এতে চটে যান রিপন। তার চড়া কণ্ঠ। ‘বলছি তো, ভাইকে একটু সময় দাও। খুশি করে দাও।

আমার একটু কাজ আছে, ঘণ্টাখানেক পরে আসতেছি।’ বলেই বের হয়ে যান রিপন। হাঁটতে হাঁটতে রিপন শুনছিলেন, স্ত্রী রুমানার যন্ত্রণার আর্তনাদ। ঘণ্টা খানেক পরে বাসায় ফিরে সঙ্গী লোকটির কাছে জানতে চান, ‘ভাই, কোনো সম’স্যা হয়নি তো?’ মধ্য বয়সী ওই ব্যক্তি জানান, ভালো লেগেছে তার।

সেই থেকে রুমানার যাত্রা শুরু ভিন্নপথে। যেখানে স্বামী রিপন নিজেই দালাল। বাসাবোর বাসায় প্রায় রাতেই এরকম ব্যক্তিকে স’ঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরেন রিপন। এ থেকে র’ক্ষা পেতে একদিন রুমানা পা’লিয়ে যান। ডিভোর্স লেটার পাঠান রিপনকে।

রিপনের অন্য সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে বেলাল, হাসান। সম্প্রতি চট্টগ্রামে এই চক্রের হাসানকে গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ। পু’লিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি অস’হায় মে’য়েদের চাকরির প্র’লোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রে;মের অভিনয় করে মে’য়েদের ফাঁ’দে ফেলতো।

তারপর অল্পদিনে বিপুল টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে নামাতো অ’ন্ধকার রাস্তায়। বাধ্য করতো প’তিতাবৃত্তিতে। কখনও কখনও বিয়েও করতো। তবে বিয়েতেই সীমাব’দ্ধ। সংসার হতো না। গ্রে’প্তারের পর চক্রের সদস্য জানিয়েছে, মূলত বাসা ভাড়ার সুবিধাতে বিয়ে করতো বা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতো।

ঢাকা থেকে এসব মে’য়েকে পাঠানো হতো চট্টগ্রামেও। চক্রের একটি আস্তানা চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায়। নি’খোঁজ এক তরুণীকে উ’দ্ধারে গিয়ে বেরিয়ে আসে চা’ঞ্চল্যকর ত’থ্য। ডবলমুরিং থা’নার ওসি মোহাম্ম’দ মহসীন জানান, বেলাল (২৫) প্রে;ম করে ভাগিয়ে আনে এক তরুণীকে।

পরে সেই তরুণীকে বিক্রি করে দেয় চক্রের আরেকজনের কাছে। তারা আগ্রাবাদে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তাকে প’তিতাবৃত্তিতে বা’ধ্য করে। একই কায়দায় তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে না’রীদের এনে এখানে জি’ম্মি করে। একই ফ্ল্যাট থেকে আরও এক তরুণীকে উ’দ্ধার করা হয়। তাকে চাকরি দেওয়ার নামে এখানে আনে তারা। পু’লিশ দুইজনকেই উ’দ্ধার করেছে। ঘ’টনাস্থল থেকে হাসান নামে একজনকে গ্রেপ্’তার করে পু’লিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *