আমির হামজাকে গ্রে’প্তারের বর্ণনা দিলেন তার স্ত্রী

নিজেকে ‘ভার্সিটির মাল’ বলে প’রিচয় দিয়ে ওয়াজ করা আলোচিত ধ’র্মীয় বক্তা মুফতি আমির হামজাকে গ্রে’প্তার করেছে কাউন্টার টে’রোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রা’ইম (সিটিটিসি)। মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজে’লার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের রিয়াজ সর্দারের ছেলে।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসীর পরিষদের কেন্দ্রিয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২৪ মে) বিকেল চারটার দিকে কুষ্টিয়ার সদরের ডাবিরাভিটা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে হামজাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

আমির হামজার স্ত্রী তামান্না সুলতানা বলেন, সাদাপোশাকে ছয়–সাতজন মানুষ এসে হাতক’ড়া পরিয়ে হু’জুরকে (আমির হামজা) নিয়ে যায়। এ সময় তাদের একজনের কাছে রা’ইফেল ছিল। তামান্না সুলতানা ভাষ্যমতে, রোববার তারা পরিবারসহ গ্রামের বাড়ি ডাবিরাভিটা যান।

দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়িতেই শুয়ে ছিলেন তার স্বামী আমির হামজা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ একটি কালো মাইক্রোবাস বাড়ির সামনে আসে। ছয়-সাতজন নেমে ঘরের ভেতরে যায়। একপর্যায়ে হু’জুরকে ডা’কতে বলে এবং তাদের স’ঙ্গে যেতে বলে। তিনি বের হলে তাঁর হাতে একজন হাতক’ড়া পরিয়ে ফেলে।

আমির হামজার স্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রত্যেকের শরীরে পাঞ্জাবি ও পাজামা পরা ছিল। তবে হাতক’ড়া পরানোর সময় কয়েকজন কালো কটি পরে। তাদের মধ্যে একজনের হাতে রাইফেল ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যে তারা কালো গাড়িতে (হাইয়েস) করে দ্রুত চলে যায়।

এরপর শহরের কয়েক জায়গায় যোগাযোগ করে এখনো তার কোনো স’ন্ধান পাচ্ছি না।’ পু’লিশের জ’ঙ্গিবি’রোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টে’রোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রা’ইম-সিটিটিসির এক দায়িত্বশীল কর্মক’র্তা তাকে গ্রে’প্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরে সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান জানান, ওয়াজে উ’সকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অ’ভিযোগে সাম্প্রতিক একটি মা’মলায় আমির হামজাকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। মা’মলার বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।’

কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজকারী আমির হামজার জ’ন্ম ১৯৯১ সালে। ই’সলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে আ’ল-কো’রআনের ওপর অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তিনি। আমির হামজা যখন ওয়াজ শুরু করেন, তখন তিনি নিজেকে প’রিচয় দিতেন, ‘আমি ভার্সিটির মাল’।

তবে ওয়াজিয়দের একাংশ আবার এ নিয়ে তাকে আ’ক্রমণ করার পর তিনি আর সে প’রিচয় দেননি। গত ৫ মে ত’লোয়ার নিয়ে সংসদ ভবনে হা’মলা চালানোর চে’ষ্টারত সাকিব নামে এক যুবককে গ্রে’প্তার করে আ’ইনশৃঙ্খলা বা’হিনী। সাকিবকে আ’টকের পর শেরেবাংলা নগর থা’নায় স’ন্ত্রাসবি’রোধী আ’ইনে একটি মা’মলা দা’য়ের করা হয়। ওই মা’মলায় সাকিবসহ আলী হাসান উসামা ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুন’বীকে আ’সামি করা হয়।

কাউন্টার টে’রোরিজম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের কাছ থেকে প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবা’দে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মা’মলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘সাকিব মোবাইল ফোনে উ’গ্রবাদ বার্তা সংবলিত ভিডিও প্র’চারকারী আলী হাসান উসামা, মাহমুদুল হাসান গুন’বী, আমির হামজা, হারুন ইজহার প্রমুখ ব্যক্তির উ’গ্রবাদী জি’হাদি হাম’লার বার্তা সংবলিত ভিডিও দেখে উ’গ্রবাদে আ’সক্ত হয়।’

ওই এজাহারে মুফতি আমির হামজার নাম ছিল। তার সূত্রে ধ’রেই তাকে আ’টক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি সূত্র। কুষ্টিয়া সদর উপজে’লার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মোজাম্মেল হক স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রোববার বিকালে মুফতি আমির হামজা বাড়িতে আসেন। এরপর সোমবার বিকালে তাকে আ’ইনশৃঙ্খলা বা’হিনীর প’রিচয়ে বাড়ি থেকে গ্রে’প্তার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় যুবক মো. রাকিব জানিয়েছেন, ব্রিজের ওপর মাইক্রোবাসটি এসে থামে। এরপর একজন অ’পরিচিত লোক বাড়ি দেখিয়ে দেন। পরে দেখলাম আমির হামজাকে ধ’রে নিয়ে গেল। আমির হামজা পা’লিয়ে আছেন বলে কয়েকদিন ধ’রে বিভিন্ন মাধ্যমে প্র’চার হচ্ছিলো। তবে তিনি বি’বৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমি চো’র নয় যে পা’লিয়ে বেড়াবো।’

গত বছর দেশে ক’রোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর আমির হামজা ক্র’মাগতভাবে মাস্ক না পরতে উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন। বলেছেন, ক’রোনা এসেছে ই’সলামে অ’বিশ্বাসীদের শা’য়েস্তা করতে। তিনি এমনও বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত না’মাজ পড়লে কারও ক’রোনা হবে না।

সামাজিক মাধ্যমে ছ’ড়ানো ভিডিওতে দেখা যায় আমির হামজা বলেন, ‘আমি ক’সম দিচ্ছি আপনার কাছে ক’রোনা আসবে না। যদি আসে আমার কাছ থেকে বুঝে নিয়েন যান। যদি আসে তাহলে কোর’আন শরিফ মি’থ্যা হয়ে যাবে। আ’ল্লাহ কি তার কো’রআনকে মি’থ্যা প্র’মাণ করবেন?’

এ নিয়ে তী’ব্র সমা’লোচনা হলে হামজা তার মতো করে ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই বক্তব্যের আগে পরে তিনি আরও অনেক কিছু বলেছেন। সেগুলো প্র’চার না হওয়ায় তার বক্তব্যের ভু’ল ব্যাখ্যা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *