মসজিদে আকসায় হামলা :ইসরাইলের বিরুদ্ধে এরদোয়ানের কঠোর পদক্ষেপ !

জেরুজালামের আল আকসা মসজিদে ইসরাইলের হামলাকে ‘জঘন্য’ উল্লেখ করে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান।

ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র উল্লেখ করে শনিবার (০৮ মে) এরদোয়ান টুইটারে লিখেন, ‘আমাদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদে ইসরাইলের জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রতি রমজানে ইসরাইল এই হামলা চালায়।’

এরদোয়ান আরও লেখেন , ‘একজন তুরস্কের নাগরিক হিসেবে যে কোনো পরিস্থিতে আমরা ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াব।’এছাড়া শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ইসরাইল নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র। তারা ক্রমাগত মুসলমানদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জাতিসংঘ এবং সব মুসলিম সংগঠনকে এই গুরুতর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানাচ্ছি।’এদিকে জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদের কাছে দ্বিতীয় রাতের

মতো পুলিশ এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং আল-জাজিরা। এতে অনেক মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

বিবিসি জানায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছে এবং পুরনো শহরের দামেস্ক গেটের কাছে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জবাবে পুলিশ কর্মকর্তারা স্টান গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার বরাতে রয়টার্স জানায়, সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৪ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি পুলিশের মুখপাত্র রয়টার্সকে জানায়, অন্তত একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

বিবিসি জানায়, শনিবারের সহিংসতার শুরু হয় জেরুজালেমের দামেস্ক গেটে যখন ইসলাম ধর্মের পবিত্র রাত লাইলাতুল কদর উপলক্ষে হাজার হাজার মুসলমান আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এর আগে শনিবার মসজিদ অভিমুখে নামাজিদের নিয়ে যাওয়া অনেক বাস আটকে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে আল-আকসা মসজিদের কাছে সহিংসতায় ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং অন্তত ১৭ জন ইসরায়েলি পুলিশ আহত হয়েছে বলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ওই ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ। জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, কিন্তু সেটি এলাকাটি ইহুদি ধর্মাবলম্বীদেরও একটি তীর্থস্থান, যাকে টেম্পল মাউন্ট বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *