ইনকারলিক ঘাঁটি থেকে মার্কিনিদের তাড়াবেন এরদোগান!

মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের ইনকারলিক বিমান ঘাঁটিকে ব্যবহার করে আসছে। এ বিমান ঘাঁটি আবারো দু’ন্যাটো সদস্যের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আর্মেনীয় গণহত্যার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেবার পরে মার্কিন-তুর্কি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আবারো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। বাইডেনের ওই সিদ্ধান্তের কারণে তুরস্ক তাদের এ বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়িয়ে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার সৌদি সংবাদপত্র আরব নিউজ বলেছে, আর্মেনীয় গণহত্যার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওই ঘোষণার প্রতিবাদে তুরস্ক এ ইনকারলিক বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন পতাকা নামিয়ে ফেলতে পারে

অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে এ ঘাঁটি। এ বিমান ঘাঁটিটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তুরস্কে ‘তুরুপের তাস’ বলে মনে করছে ওই সংবাদপাত্রটি। এ গণ-মাধ্যমটির মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো দরকষাকষির জন্য এ বিমান ঘাঁটির গুরুত্ব অনেক।’

তুরস্কের আদানা প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি সামরিক অবকাঠামো হলো এ ইনকারলিক বিমান ঘাঁটি। এ বিমান ঘাঁটিটিকে মার্কিন সেনারা ব্যবহার করে। ১৯৮০ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এক চুক্তি অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ঘাঁটিটি ব্যবহার করছে।

তুরস্কের সিরিয়া সীমান্ত থেকে ১০০ কি. মি. দূরের এ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্র আছে। এ ঘাঁটিটি পূর্বেও বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে মারাত্মক খারাপ সম্পর্কের সময়ও এ বিমান ঘাঁটিটি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান সালের ডিসেম্বরে বলেন, তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইনকারলিক বিমান ঘাঁটি বন্ধ করে দিবে। ওই সময় রাশিয়ার এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং মার্কিন সিনেটে এক শ’ বছর আগের আর্মেনীয় গণহত্যার বিষয়ে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য একটি পৃথক প্রস্তাব আনার জবাবে তিনি এমন বক্তব্য দেন।

আরব নিউজের মতে, যদি তুরস্ক এ বিমান ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়, তাহলে তুরস্ক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। তুরস্ককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে মনে করবে না।

কারণ, অবস্থানগত কারণেই এ ইনকারলিক বিমান ঘাঁটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিমান ঘাঁটিটি খুব ভাড়া দিয়ে ব্যবহার করছে বলে আরব নিউজকে জানান, ওজঘুর আনলুহিসারচিকলিওগুলু। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জার্মান মার্শাল ফান্ডের আঙ্কারা অফিসের পরিচালক।

ওজঘুর আনলুহিসারচিকলিওগুলু আরো বলেন, ‘এ সকল ব্যাপারের কারণে এ ঘাঁটিটি তুরস্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘তুরুপের তাস’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষার জন্যও এ ঘাঁটিটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

কিন্তু এ তুরুপের তাস দিয়ে মাত্র একবারই খেলা যাবে। এরপর আমরা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিব যে মার্কিন-তুর্কি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চিড় ধরেছে। আমি মনে করি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও জমা হয় তবুও এ ঘাঁটিটি বন্ধ করা উচিৎ হবে না।

সূত্র : আহভাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *