পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে মাকে হাসপাতালে নেয়া সেই ছেলের এখন করোনা শনাক্ত

করোনা আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে করে ঝালকাঠি থেকে বরিশালের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু। মা করোনামুক্ত হলেও এবার ছেলে নিজেই আক্রান্ত হয়েছেন। জিয়াউল হাসান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে এবং বাড়িতে ছিলাম। এ কারণে শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করাই। নমুনা দেওয়ার ১০ মিনিট পর তারা জানায় আমি করোনা পজিটিভ।

করোনা পজিটিভ হলেও শারীরিকভাবে ভালো আছেন বলে জানিয়ে জিয়াউল, তার সঙ্গে ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ও করোনা পরীক্ষা করানো হয় কিন্তু আর কারও করোনা শনাক্ত হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে হাসপাতালে যাওয়া সেই ব্যাংকার বাসায় ফিরেছেন। টানা ছয় দিন হাসপাতালে থেকে করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে নিজ জেলা ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় চলে গেছেন। জিয়াউল হাসান টিটু গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে মাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এখন মা সম্পূর্ণ সুস্থ।

তিনি আরও বলেন, যে মোটরসাইকেলে করে মাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়েছিলাম, আজ (বৃহস্পতিবার) সেই মোটরসাইকেলে করে মাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে ফিরেছি। এটি আমার কাছে পরম আনন্দের। তিনি ও তার ছোট ভাই রাকিবুল হাসান ইভান মাকে নিয়ে নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যপাশা গ্রামে ফেরেন। মাকে নিয়ে তাদের এ বাড়ি ফেরাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ বিজয় উল্লেখ করে জিয়াউল হাসান জানান, ৬ দিন মুমূর্ষু মাকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রেখে পুরোপুরি সুস্থ করে বাড়ি ফিরেছি। এর চেয়ে আর বেশি পাওয়ার কী আছে।

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল পিঠের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে করোনা আক্রান্ত মাকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে ঝালকাঠির নলছটি থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান জিয়াউল হাসান। মোটরসাইকেলে মা-ছেলের সেই ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরছয় দিন পর মাকে করোনামুক্ত করে বাড়ি ফিরেন ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান। এবার তিনি নিজেই আক্রান্ত হলেন করোনায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *