সামনে হেফাজতের জন্য যে দুঃসংবাদগুলো আসছে

হেফাজতের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান চলছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো হেফাজতের নেতাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদেরকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলো সচল করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বর এলাকায়, মতিঝিলে, বায়তুল মোকাররমে এবং পল্টনে তারা যে তাণ্ডব করেছিল সেই পুরনো মামলাগুলো এখনো সচল হয়েছে। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় ২৬ এবং ২৭ মার্চ তারা যে তাণ্ডব করেছে সেই অভিযোগে অনেককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে সহিংসতার জন্য কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, এটিই শেষ নয়। হেফাজতের বিরুদ্ধে এই শুধু যে গ্রেফতার এবং পুরনো মামলাগুলো সচল বা নয় নতুন মামলা করা হবে এটাই নয়, হেফাজতের বিরুদ্ধে আরো কঠিন অবস্থানে যাচ্ছে সরকার এবং বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে,

১. কওমি মাদ্রাসা হেফাজতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হবে: সরকার ইতিমধ্যে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে হেফাজতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কওমি মাদ্রাসার জন্য আলাদা একটি স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন এবং এটিকে পরিচালনা, তদারকি এবং শৃঙ্খলা বিধানের জন্য সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটি খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। হেফাজতের নেতৃত্বে কওমি মাদ্রাসা কোনো ভাবেই থাকবে না। সরকারি একটি সূত্র বলছে, যেহেতু কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে কাজেই এটি এখন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসবে। আলিয়া মাদ্রাসা যেভাবে পরিচালিত হয় সেভাবে কওমি মাদ্রাসাও পরিচালিত হবে।

২. হেফাজত নেতাদের আর্থিক কেলেঙ্কারি তদন্ত: ইতিমধ্যেই হেফাজতের নেতাদের আর্থিক বিষয়গুলো তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনটেলিজেন্স ইউনিট। সেই তদন্তে হেফাজতের নেতাদের আর্থিক দুর্নীতির বড় বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাদের বিপুল পরিমাণ তহবিল তছরুপের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আর এই কারণেই এই আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে বেশ কিছু মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত চলছে। তদন্তের প্রাথমিক তথ্য প্রমাণাদি একত্রিত হবার পর এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩. রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ: হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি নেতৃবৃন্দের গোপন ষড়যন্ত্রের বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ সরকারের হাতে এসেছে এবং এই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হেফাজতের এই নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হবে বলে একাধিক সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাগুলোতে হেফাজতের সঙ্গে বিএনপির অনেক নেতৃবৃন্দও জড়িত থাকবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এই মামলাগুলো যখন হবে তখন হেফাজত নতুন সমস্যায় পড়বে।

৪. মাদ্রাসাগুলোর জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ: সরকার কওমি মাদ্রাসাগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনবে এবং এই মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। এখন মাদ্রাসাগুলাে দিয়েই হেফাজতের নেতারা একদিকে যেমন সম্পদশালী হচ্ছে অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতাবান হচ্ছে। এটা বন্ধ করার জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে যেখানে এই ধরনের মাদ্রাসাগুলোর ওপর হেফাজতের নেতাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব থাকবে না। তারা শুধু সেখানে শিক্ষকতা করবেন এবং কারা কোন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করবেন সেটার ব্যাপারে সরকারের একটি নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে।

৫. কওমি শিক্ষকদের রাজনীতির ওপর বিধিনিষেধ: কওমি শিক্ষকদের রাজনীতির ওপর বিধিনিষেধের ব্যাপারে সরকার পরিকল্পনা নিচ্ছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে যে, তারা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না। এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে। আর এই সমস্ত পরিকল্পনাগুলো হলে হেফাজত নিষ্ক্রিয় শুধু হবে না, সংগঠন হিসেবে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো মনে করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *