দেশবাসীর প্রতি যে আবেদন জানালেন হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষগণ

পবিত্র মাহে রমযানে দেশবাসীর প্রতি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ই’সলাম হাটহাজারীর পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষা পরিচালনা কমিটি ও সকল উস্তাদগণের পক্ষ থেকে বিশেষ আ’বেদন জানানো হয়েছে। বুধবার (২১ এপ্রিল) এক ভিডিও বা’র্তায় এ দেশবাসীর

প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়। মাদরাসার কার্যকরী পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক ড. নুরুল আবছার আযহারী। ইনসাফ এর পাঠকদের জন্য ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো। আসসালামু আলাইকুম

ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া’বারাকাতুহ। নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম। আম্মাবাদ, প্রিয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইয়েরা! আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারু’ল উলূম মুঈনুল ইসলাম

হাটহাজারী মাদরাসা ১৯০১ইং সনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১২০ বৎসর যাবত ইসলামের নিরলস খেদমত করে আসছে। আমাদের পূর্বসুরি আ’কাবিরদের প্রতিষ্ঠিত ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-দর্শ’নকে সামনে রেখে বাংলাদেশের জনসাধারণের মাঝে ইস’লামের সঠিক জ্ঞান ও শিক্ষার

প্রচার-প্রসার, ইবাদত-বন্দে’গীর সুন্নাহভিত্তিক অনুশীলন, দাওয়াত ও তাবলীগ এবং আদর্শ নাগরিক গড়ার মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অত্র জা’মিয়া প্রতিষ্ঠা হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার আলেম, ক্বারী, মুফতি, মুহাদ্দিস, হা’ফেজ, লেখক ও দ্বীনের

দায়ী তৈরি হয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে দ্বীনের বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া শিক্ষিত, সৎ ও আদর্শ জাতি গঠন এবং সমাজ বি’নির্মাণে এই জামিয়া অনন্য ভূমিকা রেখে আসছে। এছা’ড়া সমাজের পিছিয়ে

পড়া গরীব, এতীম ও অ’সহায়দের মাঝে আদর্শ শিক্ষা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গরীব, এতীম ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রকে স”ম্পূর্ণ বিনা বেতনে এবং ফ্রি খোরাকী ও আবাসন সুবিধা দিয়ে পড়ালেখার সুযোগ

করে দেওয়া হয়। আপ’নাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং সম’গ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ইসলামী শিক্ষা”কেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত। বর্তমানে অত্র জামিয়ার শিক্ষক, কর্ম’কর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা

১০০ জন এবং ছা’ত্র সংখ্যা প্রায় ৮,০০০ জন। তন্মধ্যে ৪,৭০০ জন গরীব, এতিম ও মেধাবী ছাত্রকে বিনামূল্যে বোর্ডিং থেকে খো’রাকী প্রদান করা হয়। একমাত্র আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত ও দয়া এবং সর্বসা’ধারণের আর্থিক অনুদান ও সাহায্য-সহ’যোগিতার উপর ভিত্তি করেই অত্র

জামিয়া পরিচালিত হয়। দুনি’য়ার বুকে খালেস দ্বীনি শিক্ষাকে চালু রাখার প্র”চেষ্টায় সাধ্যমতো সহযোগিতা করা প্রত্যেক মুসলমানের দ্বী”নি দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আলহামদুলিল্লাহ আপনারা সবসময় এই প্রতিষ্ঠানের পাশে থেকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা, সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *