আলহামদুলিল্লাহঃ- খুলে গেল সকল প্রবাসীর ভাগ্য, আজ থেকে পুরোদমে চালু হচ্ছে ট্রানজিট ফ্লাইট।

আলহামদুলিল্লাহঃ- খুলে গেল সকল প্রবাসীর ভাগ্য, বুধবার থেকে পুরোদমে চালু হচ্ছে ট্রানজিট ফ্লাইট। বিস্তারিত জেনে নিন নিচের ভিডিওতে

ভিডিও দেখুন এখানে ক্লিক করে

আরও পড়ুনঃ

করেনা পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চালুর সংবাদ শুনেই ঝুঁকি নিয়ে টিকিট কেটে রেখেছিলেন দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহীন রেজা। শর্ত মেনে করেছিলেন করোনা পরীক্ষাও। পণ করেছিলেন বাংলাদেশে প্রথম যে ফ্লাইট যাবে সেটিতেই দেশে ফিরবেন। সেই অনুযায়ী টিকিট কাটেন সৌদির জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪০৩৬ ফ্লাইটের। অবশেষে ২৫৪টি আসনের ফ্লাইটে তিনিই একমাত্র যাত্রী হিসেবে দেশেও ফিরলেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, জেদ্দা থেকে রোববার সকাল ৮টায় ঢাকায় আসা বিমানটি ছিল ড্রিমলাইনার মডেলের। ২৫৪টি আসনের ফ্লাইটে একমাত্র যাত্রী ছিলেন শাহীন রেজা।

বিমানবন্দরে শাহীন রেজা বলেন, আমি সৌদি আরবের মক্কায় একটা স্কুলে চাকরি করি। প্রতি বছর রমজান মাসে স্কুল দুই মাসের ছুটি থাকে। সেই ছুটিতেই দেশে ফিরি। কিন্তু গত বছরের রমজানে করোনার কারণে দেশে ফিরতে পারিনি, তাই এবার আসার পরিকল্পনা করি। ১৫ এপ্রিল আমি বিমানের একটি টিকিট কাটি, তখনও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ। লকডাউনে এই ফ্লাইটও মিস হতে পারে এটি জেনেও টিকিট কিনে রেখেছি।

তিনি আরো বলেন, এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনার পর আমি বিমানের সৌদি অফিসে যাই। সেখানে আমাকে বাংলাদেশে ফিরে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টি জানানো হয়। কোয়ারেন্টাইনে যেতে আমার সমস্যা নেই বলে জানাই। এ মর্মে একটি কাগজে সইও করি।

এরপর ১৮ এপ্রিল জেদ্দার বিমানবন্দরে গিয়ে উপস্থিত হই। সেখানে বিমানের পক্ষে চেক-ইন কাউন্টারে ছিলেন দুইজন সৌদি নাগরিক। তারা আমাকে বলেন, তুমি অনেক ভাগ্যবান, একা অত বড় ফ্লাইটে যাবে।

এত বড় ফ্লাইটে একা থাকার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে শাহীন রেজা বলেন, আমি প্লেনে প্রবেশ করতেই বিমানবালারা আমাকে আমন্ত্রণ জানান, আমি সামনের আসনে বসলাম। সাধারণত এ রুটের ফ্লাইটে একবার খাবার পরিবেশন করা হয়। তারা আমাকে দুই বার খাবার পরিবেশন করেন। বার বার জিজ্ঞেস করেন আমার কিছু লাগবে কি না? সব মিলে অভিজ্ঞতাটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শাহীন রেজা বর্তমানে হজ ক্যাম্পে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তবে তিনি তার কোয়ারেন্টাইরেন শিথিল করা প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি ফ্লাইটে একা এসেছি, ফ্লাইট থেকে নেমে বাসেও একা ছিলাম, কারও সংস্পর্শে আসিনি। যদি আমার কোয়ারেন্টাইনটা কিছুদিন কমানো হতো তাহলে ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে আরও কয়েকটা দিন বেশি থাকতে পারতাম।

সর্বাত্মক লকডাউনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে সৌদি আরবে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন। টিকিট বাতিল করেছিলেন অনেকে। হঠাৎ করেই ১৭ এপ্রিল বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ অবস্থায় অনেক প্রবাসী আবার দেশে ফেরার টিকিট কাটেন। তবে সৌদি আরব বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের ল্যান্ডিং পারমিশন (অবতরণের অনুমতি) না দেয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। বাতিল করেন তাদের দেশে ফেরার টিকিট। তবে শাহীন রেজা তা করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *