কাশ্মির ইস্যুতে জানুয়ারিতে গোপন বৈঠক করে ভারত-পাকিস্তান সরকার

প্রকাশ্যে একে অপরের তীব্র বিরোধিতা করলেও ব্যাক চ্যানেল কূটনীতি ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ভারত ও পাকিস্তান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জম্মু- কাশ্মির ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমনে জানুয়ারিতে দুবাইয়ে গোপন বৈঠকে মিলিত হন উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।

২০১৯-এ পুলওয়ামায় আত্মঘাতী মানববোমা বিস্ফোরণ, বালাকোটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযান ঘিরে দুটি দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল আগে থেকেই। পরে ভারত তাদের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করলে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে।

রয়টার্স জানায়, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) ও পাকিস্তানের আইএসআই কর্মকর্তারা গোপন আলোচনার জন্য দুবাই গিয়েছিলেন। এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এর আগে মার্চ মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারত ও পাকিস্তানের উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতা করছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এই উদ্যোগে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ২০০৩ সালে ঘোষিত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত, পাকিস্তান পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে সম্মত হয় বলে খবরে বলা হয়েছে।

এবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি দেশ কথা বলে পরস্পরকে হুমকি দেওয়া, বাগাড়ম্বর বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। সেই অনুসারে পাকিস্তান যেমন ২০১৯-এর আগস্টে জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা, স্বায়ত্তশাসন বাতিলে ভারতীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হবে না, তেমনি দিল্লিও পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের ভূখণ্ডে যাবতীয় সহিংসতার জন্য দায়ী করা থেকে বিরত থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, এটা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে কাশ্মিরে হামলা চলবে, সেটি মোকাবিলায় আলোচনাও চলবে, কিন্তু পরবর্তী হামলায় এই প্রয়াস বানচাল হতে দেওয়া যাবে না।

পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ আয়েশা সিদ্দিকা রয়টার্সকে জানান, বেশ কয়েক মাস ধরেই এ ধরনের আলোচনা চলছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় একেবারে সর্বোচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন বৈঠক থাইল্যান্ড, দুবাই ও লন্ডনে হয়েছে।

কেন পাকিস্তানের সঙ্গে এমন যোগাযোগ ও আলোচনার কথা প্রচার করা হচ্ছে না, এই বিষয়ে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, এমন অনেক বিষয় আছে যাতে ভুল হতে পারে। সেজন্যই এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। এমনকি এই আলোচনা প্রক্রিয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক নামও নেই। এটি শান্তি প্রক্রিয়া নয়, বড়জোর একে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন বলা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *