কুমিল্লায় ভু’ল সিজারের ৫ মাস পর প্রসূতির মৃ’ত্যু

কুমিল্লার দে’বিদ্বারে অ’পারেশনের সময় পেটে গজ রাখার ৫ মাস পর দ্বিতীয় অ’পারেশনে গজ বের করা সেই প্রসূতি শারমিন আক্তারের মৃ’ত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার মৃ’ত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শারমিনের বাবা মো. মোবারক হোসেন। বুধবার ভোরে শারমিনের ম’রদেহ ঢাকা থেকে তার বাবার বাড়ি জে’লার দেবিদ্বারের হোসেনপুর গ্রামে আনা হয়। সেখানে সকাল ১০টায় প্রথম জা’নাজা শে’ষে নেয়া হয় স্বামীর বাড়ি জে’লার মুরাদনগর উপজে’লার মোগসাইর গ্রামে।

এদিকে, ভু’ল চিকিৎসার বিষয়ে জে’লা প্র’শাসন ও জে’লা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু করেনি জে’লা স্বাস্থ্য বিভাগের ত’দন্ত কমিটি। যা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধ’রে সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

শারমিন আক্তারের পরিবারের অ’ভিযোগ, দেবিদ্বার সদরের আল ই’সলাম হাসপাতালে তার সিজার হয়েছিল ৫ মাস আগে। কিন্তু অ’পারেশনের সময় ডাক্তার ও তার সহযোগীরা পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেয়। কিন্তু তী’ব্র ব্য’থা ওই প্রসূতির অবস্থা সংক’টাপন্ন দেখে গত ৬ এপ্রিল রাতে অপর জে’লার ময়নামতির অপর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে পুনরায় অ’পারেশন করে পেট থেকে বের করা হয়েছিল গজ (মপ)।

কিন্তু তার শা’রীরিক অ’বস্থার অবনতি ঘ’টায় গত শনিবার (১০ এপ্রিল) ভোরে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। শারমিনের স্বামী রাসেল মিয়া জানান, গত বছরের ৫ নভেম্বর দেবিদ্বার আ’ল ইসলাম হসপিটালে তার সিজার অ’পারেশন করেন ওই হাসপাতালের খণ্ডকালীন গাইনি চিকিৎসক ডা. রোজিনা আক্তার।

জ’ন্ম হয় ছেলে স’ন্তান। গত ৯ নভেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। ডাক্তারের এ ভু’লে আমার সাড়ে ৩ বছরের ক’ন্যা মানহা এবং সাড়ে ৫ মাস বয়সী মুনতাছিরের মায়ের শূন্যতা কিভাবে পূরণ করবো? চিকিৎসকদের ভু’লের খেসারত স্ত্রীর মৃ’ত্যুর মধ্য দিয়েই দিতে হবে তা ভাবতে পারিনি।

শারমিনের বড় ভাই রহুল আমিন জানান, ওই প্রাইভেট হাসপাতালে তার বোনকে ভর্তির পর চিকিৎসক রোজিনা আক্তার তাকে দেখে জ’রুরিভাবে সিজার করতে পরাম’র্শ দেন। ডাক্তারের কথা শুনে আমরা সিজারে রা’জি হলে ৫ নভেম্বর ডা. রোজিনা আক্তার ও তার সহযোগী ডা. শামীমা আক্তার লিন্টাসহ অন্যান্য নার্স ও ওটি বয় মিলে তার বোনের সিজার সম্পন্ন করেন।

সিজারের দুইদিন পর থেকে শারমিনের পেটে ব্য’থা হতে থাকে, হাসপাতাল থেকে এ সময় কিছু ও’ষুধ দেয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর অ’পারেশনের ক্ষ’ত থেকে পুঁ’জ বের হতে থাকে। পরে ব্য’থা আরো বেড়ে গেলে তাকে কুমিল্লাসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রচুর ও’ষুধ খেতে দেন।

কিন্তু তার জী’বন সংক’টাপন্ন দেখে গত ৬ এপ্রিল জে’লার ময়নামতি ক্যান্টমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে তার অ’পারেশন করে পেট থেকে গজ বের করা হয়। তিনি আরো জানান, দেবিদ্বারে আমার বোনের অ’পারেশনে নিয়োজিত চিকিৎসকের এমন ভু’লের কারণে পেটে গজ নিয়ে গত ৫ মাস আমার বোন অ’সহনীয় য’ন্ত্রনা নিয়ে বেঁ’চে ছিল।

দী’র্ঘ এ সময়ে দেশের অনেক নামিদামি হসপিটালে ঘুরেছি, অর্থ ব্য’য় করেছি। কিন্তু সব স্থানেই ভু’ল চিকিৎসা ও প্র’তারিত হয়েছি। কার কাছে বি’চার চাইবো? আ’ল ই’সলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্ম’দ হোসেন (এনাম) বলেন, ঘ’টনাটি যেভাবেই কিংবা যার ভু’লেই হোক এ অ’নাকাঙ্ক্ষিত মৃ’ত্যুতে আমরা অ’নুতপ্ত এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে গঠিত ত’দন্ত কমিটি বিষয়টির ত’দন্ত করছে।

মুঠোফোনে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ওই প্রসূতির মৃ’ত্যুর খ’বর আমরা জানতে পেরেছি। এ ঘ’টনায় এরমধ্যে পৃথক ত’দন্ত কমিটি আগেই গঠন করা হয়েছে। ত’দন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *